দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মুরারীপুর গ্রামের খামারিরা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশি গরুর চাহিদা মেটাতে জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর গ্রামের প্রতিটি পরিবারে গরুর খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এসব গরু সুস্থ-সবল রাখতে ব্যস্ততা বেড়েছে মুরারীপুর গ্রামের গরু খামারিদের। এই গ্রামের ভিন্নতা হলো, কমবেশি সবার বাড়িতে একটি করে গরুর খামার রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির খামারিদের সর্বনিম্ন ৩টি থেকে সর্বোচ্চ ৫০টি পর্যন্ত গরু রয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহরিয়ার মান্নান জানায়, জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মুরারীপুর গ্রামে ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছরে বীরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় পর্যায় ২৭ জন খামারিকে গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গরু খামারিরা নিজের উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে এক-দুটা গরু দিয়ে নিজের বাড়িতে গরু মোটাতাজাকরণ খামার শুরু করেন। গ্রামের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ ও যুবকদের পশু পালনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ সবসময় দেওয়া হয়। ফলে গ্রামটি এখন গরুর খামারের জন্য পরিচিত লাভ করেছে। খামারিদের বেশিরভাগই গরুর খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গরুর সমস্যায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সহযোগিতা পান বলে জানায় গ্রামের খামারিরা। মুরারীপুর গ্রামের পাঠানপাড়ার গরু খামারি নাজমুল হোসেন জানান, খামারে বিদেশি জাতের ১৪টি গরু আছে। যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো। দেশীয় জাতের ২৩টি ষাঁড় আছে। এসব গরু কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। গরুর খামার করেই আজ আমি স্বাবলম্বী হয়েছি।
গরুর খামার হিসেবে ধরতে গেলে মুরারীপুর গ্রাম দেশের মধ্যে একটি মডেল গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশিকা আখতার তৃষ্ণা জানান, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আড়িয়া গরু ৫৬ হাজার ৫১৭টি, বলদ গরু ৩৫ হাজার ৫৪৫টি, গাভী ৩১ হাজার ৩৮৭টি, মহিষ ৭ হাজার ৫৬২টি। মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ১১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৯৭ হাজার পশুর। অপরদিকে ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক লাখ ৪৮ হাজার ৭৪২টি আর ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৭১৮টি।
জেলায় ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা রয়েছে মাত্র ৭৮ হাজার। অতিরিক্ত কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মুহিববুর রহমান বলেন, ‘মুরারীপুর গ্রামের মানুষের আগ্রহ এবং আমাদের প্রচেষ্টায় আজকে ওই গ্রামের প্রায় সব মানুষই গরুর খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা চাই পুরো উপজেলায় এ রকম খামার ছড়িয়ে দিতে। যাতে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য অন্যের কাছে যেতে না হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম জানান, এই গ্রামের মতো যদি সারা দেশে গরু মোটাতাজাকরণ খামার তৈরি করা যেত, তাহলে একদিকে যেমন গরুর মাংসের ঘাটতি মিটত, অন্যদিকে দেশে আর বেকার সমস্যা থাকত না। কোরবানি ঈদে জেলার বেশিরভাগ গরুর চাহিদা এই গ্রামের খামারিরা পূরণ করতে পারবে বলে আমার মনে হয়।
