জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ১২ কেজির এলপিজির নির্ধারিত দাম যখন ১ হাজার ৩৪০ টাকা ছিল, তখনো বাজারে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা করে বিক্রি করতেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। এখন ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণের পর তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগও তো নেই।
এলপিজির দাম নিয়ে চরম নৈরাজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রবিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, যিনি প্রতি মাসে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এলপিজির দাম ঘোষণা করেন।
ভোক্তারা যাতে ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারেন তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে মাসে মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। বাজারে নৈরাজ্য বন্ধ করার দায়িত্বও কমিশনের। কিন্তু সেই কমিশনপ্রধানের এমন বক্তব্য কতটা ভোক্তাবান্ধব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যে অনেকটাই পরিষ্কার অতীতে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয় তিনি জানতেন। কিন্তু বাড়তি দাম নেওয়া বন্ধ করতে পারেননি বা করেননি। বরং এখন বাড়তি দামের বিষয়টিও যে যৌক্তিক তা আগের দাম দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছেন তিনি।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এ মাসে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা মূল্যবৃদ্ধি করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। আর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। একইভাবে অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য বাড়িয়েছে বিইআরসি। কিন্তু নির্ধারিত দামে তা পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে।
উত্তরার বাসিন্দা ইসমাইল আলী গত বৃহস্পতিবার ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে। তিনি জানান, ‘সরকার নির্ধারিত দামে কখনোই বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না। এবার এক মাসেই ৬০০ টাকা দাম বৃদ্ধির পর ভাবছিলাম ন্যায্য দামে এলপিজি পাওয়া যাবে। কিন্তু এবারও হতাশ।’
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আসফাক ই ইলাহী জানান, চলতি মাসে তিনি ৩৫ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছেন ৬ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে। অথচ বিইআরসির নির্ধারিত দাম ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা।
খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলছিলেন, বিইআরসি মাসে মাসে দাম নির্ধারিত করেই খালাস। কিন্তু বাজারে যে ব্যবসায়ীরা আমাদের গলা কাটছে সেই খবর তারা রাখে না। বিইআরসি যদি এ নৈরাজ্য থামাতে না পারে তাহলে প্রতি মাসে এ দাম নির্ধারণের কী দরকার?
আসফাক জানান, এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম চড়া। তার ওপর এলপিজির এ অস্বাভাবিক দাম মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ৪৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের প্রকৃত দাম ৭ হাজার ২৭৫ টাকা। কিন্তু বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯ হাজার টাকায়।
বাড়তি দাম যারা নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জালাল আহমেদের বক্তব্য হলো প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৪০ হাজার টন। এ মাসে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার টন আমদানি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে আমদানি বন্ধ করে দিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা বিক্রেতারা দোকান বন্ধ করে বাসায় গিয়ে ঘুমাবেন। তখন এর দায় কে নেবে?
বিইআরসির বিরুদ্ধে ভোক্তার চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার অভিযোগ বেশ পুরনো। এমনকি এলপিজি অপারেটদের চাপে এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করার অভিযোগ রয়েছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীদের চাপে অভিযান বন্ধ রাখার ঘটনা তো প্রায়ই ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিইআরসি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নজরদারির অভাবের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি সরবরাহ কম হওয়ায় এ নৈরাজ্য চলছে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মূলত বিইআরসির অদক্ষতা এবং তাদের জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই এলপিজি নিয়ে এ নৈরাজ্য চলছে। তারা নিজেরাই নিজেদের আইন লঙ্ঘন করছে। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেজন্য কারাদ-ের বিধান পর্যন্ত আছে। কিন্তু কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এসবের প্রতিকার চেয়ে বিগত সরকারের আমলে কমিশনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্যাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, কমিশনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যমান আইনেরও সংস্কার জরুরি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
ব্যবসায়ীরা দোষারোপ করছেন একে-অপরকে : বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানির পর অপারেটররা তা বিক্রি করেন ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে। সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতারা তা কিনে বিক্রি করেন ভোক্তার কাছে।
অতিরিক্ত দামের বিষয়ে এলপিজি অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খুচরা বিক্রেতারা একে-অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে নিয়ম রক্ষার মূল্য নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করছে। ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায় বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবেই।
ঢাকার তিনজন খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে তাদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ টাকা দিয়ে। এর সঙ্গে নিজেদের মুনাফা ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে তা কমপক্ষে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হবে। না হলে তো ব্যবসা হবে না। একইভাবে অন্যান্য ওজনের এলপিজির দামও বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক এবং তাহের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু তাহের কোরাইশী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ন্যায্য দামেই এলপিজি বিক্রি করছি। কেউ বেশি নিলে সেই দায় তার। তবে এটা সত্যি, একই ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কোনো অপারেটরের ১ হাজার ৮৫০ টাকা আবার কোনো অপারেটর বিক্রি করছেন ১ হাজার ৯৫০ টাকায়। এক্ষেত্রে যিনি বেশি দাম দিয়ে এলপিজি কিনছেন তিনি তো বাড়তি দাম নেবেনই।
অভিযোগ অস্বীকার করে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি কোনো অপারেটর বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি করছে না। যদি কেউ বাড়তি দাম নেন তাহলে ওই ব্যবসায়ীর কাছে তো রসিদ থাকার কথা। সেটা তিনি প্রমাণ হিসেবে বিইআরসিতে জমা দিলেই তো তারা ব্যবস্থা নেবে।
আমিরুলের ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে প্রমাণ চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন পরবর্তীতে।
আমিরুল হকের ভাষ্য হলো খুচরা বিক্রেতাই মূলত ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। দেশজুড়ে অন্তত ১৫ হাজার দোকানদার রয়েছেন যারা এলপিজি বিক্রি করেন। কিন্তু তাদের কোনো লাইসেন্স নেই। তারা ঠিকমতো ভ্যাট-ট্যাক্স দেন না। ফলে তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই। জবাবদিহিতার আওতায় না আনা গেলে তো এগুলো বন্ধ হবে না।
ভোক্তারা বড়ই অসহায় : গ্যাস সংকটের কারণে দেড় দশক ধরে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার। ফলে রান্নার কাজে ভোক্তাদের বড় অংশই এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। আবার অনেকের গ্যাস সংযোগ থাকলেও ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন।
মূলত বাসাবাড়িতে রান্নায়, কারখানা, বাণিজ্যিক ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে (অটো গ্যাস) ব্যবহার হচ্ছে এলপিজি। গত ৭ বছরে দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে এখন ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে।
আর এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ভোক্তারাও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এলপিজি নিয়ে এমন চরম নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করেছে। কিন্তু তাতে দাম নিয়ন্ত্রণে তো আসেনি, উল্টো এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছে এলপিজি বিক্রেতাদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এক পর্যায়ে অভিযান সাময়িক বন্ধ করে পিছু হটে বিইআরসি।
দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এ এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কম দামের এলপিজির সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায় না। এই এলপিজির পরিমাণ বাড়ানো গেলে নৈরাজ্য কিছুটা হলেও কমবে।
কিন্তু সরকারিভাবে এলপিজির উৎপাদন বাড়ানোর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। সংকটের সময় সরকারিভাবে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চাইলে এলপিজি আমদানি করে দেশে বোতলজাত করে বিক্রি করতে পারে। এটা খুব ব্যয়বহুল ও ঝামেলা না। তা ছাড়া দেশজুড়ে পেট্রোলপাম্পগুলোতে বিপিসির বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে যে তেল বিক্রি করে সেখানেই আলাদাভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির সুযোগ রয়েছে। এতে ভোক্তা ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন না। একটুখানি সদিচ্ছা থাকলেই এটা সম্ভব।
নিরাপদে ও সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহারকারীদের সরকার ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি নানা রকম তদারকি করে। কিন্তু বাংলাদেশে ন্যূনতম ভর্তুকি তো দেওয়া হয়ই না, এমনকি ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকারি সংস্থাগুলোর যে ধরনের তদারকি দরকার তাও চোখে পড়ে না খুব একটা।
লাইসেন্স নেই বেশির ভাগ পরিবেশকের : এলপিজি আমদানি ও বোতলজাত করার জন্য কমিশন থেকে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়েছে। যাদের বলা হয় এলপিজি অপারেটর। এর মধ্যে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এলপিজি অপারেটর হিসেবে কাজ করছে। এলপিজির গড় মাসিক বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টন। এই বাজারের ৫৫ শতাংশ ব্যবসা রয়েছে ৫টি প্রতিষ্ঠানের হাতে।
অপারেটরদের কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলরা। সারা দেশে এমন প্রায় ২৫ হাজার পরিবেশক রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। যদিও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পরিবেশকের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।
আইন অনুযায়ী বিইআরসি থেকে এদের নিবন্ধন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাত্র ১৩ জন পরিবেশক ছাড়া লাইসেন্স নেই কারোরই। আবার ১১ হাজারের বাইরে যেসব খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন তাদেরও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেই। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরিবেশকদেরও লাইসেন্স নিতে হবে। এসব ব্যবসায়ীর বেশির ভাগই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডার পরিবহন ও বিক্রি করার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।