মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আসছে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৭ এএম

সরকার গঠনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রীদের দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। মন্ত্রিসভায় কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় দেওয়ায় তারা কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার সদস্য বাড়ানোর চিন্তা চলছে। বিএনপির পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাজপথে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ জায়গা পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়। পরিবর্তন আসতে পারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জানান, মন্ত্রীদের প্রাথমিক মেয়াদ ছয় মাস। ছয় মাসে কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হবে। সে হিসাবে আগামীকাল ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্ভাব্য নতুন মুখ নিয়ে নানা চলছে জল্পনা-কল্পনা। পাশাপাশি দলের মহাসচিব ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় তার জায়গায় কে আসছেন তা নিয়েও জোরেশোরে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগেরও দায়িত্বে আছেন। তার সঙ্গে মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা।

বিগত সময়ে যখন যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের দলের মহাসচিব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর নতুন করে কাউকে মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করেনি। দলের নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এ পদে নতুন কেউ আসবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ আসতে পারেন। এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলকে প্রতিমন্ত্রী এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর।’

মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এক সদস্য জানান, আজকালের মধ্যেই রদবদল হতে পারে। বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় এবং সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়া ও রদবদল নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। সরকারের কাজের গতি বৃদ্ধি এবং কিছু খাতে চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

তারা আরও জানান, বিএনপি সরকার গঠনের পর কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মন্ত্রীদের ওপর প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী চাপ বাড়ছে। ফলে কাজের গতি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ওপর চাপ কমাতে নতুনদের দায়িত্বে আনার বিষয়টি বিবেচিত হচ্ছে। তবে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে কারও বাদ না পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার মতো রিজার্ভ নেতা দলে রয়েছেন। তাদের মন্ত্রিসভায় যুক্ত করলে সরকারের কাজে গতি বাড়বে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমসহ আরও অনেকে আছেন রিজার্ভ হিসেবে।’

তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। এ মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে বিএনপির পক্ষে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা মুশফিকুল ফজল আনসারী। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।’

রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন রয়েছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আসতে পারেন। তবে এ মন্ত্রণালয়ে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলকেও দেখা যেতে পারে। পরিবর্তন হতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এখানে অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া আসতে পারেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এই দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে শরিক রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলেও আভাস পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া বিএনপি থেকে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির মিত্র ও শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় তিনি দেশের সার্বিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শরিক দলগুলোর সহযোগিতাও কামনা করেন।

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এখতিয়ারভুক্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত