লেবাননে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর যখন ঘরছাড়া মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে দেওয়া ‘উচ্ছেদ আদেশে’ আবারও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলায় বাস্তুচ্যুতদের ভিড়ে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর লেবাননের প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি বড় অংশ তাদের ভিটেমাটিতে ফিরতে শুরু করেছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি মেরামত করা বা অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পরীক্ষা করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ ফিরে দেখেছে তাদের সাজানো ঘরটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও ভিটেমাটির টানে মানুষের ফেরা থামেনি।
দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামের ‘মুখতার’ (স্থানীয় কমিউনিটি নেতা) জানান, তার এলাকার অন্তত ৭৫ শতাংশ মানুষ গত কয়েকদিনে ঘরে ফিরেছিল। কিন্তু আজ ইসরায়েলি বাহিনীর দেওয়া নতুন উচ্ছেদ আদেশের পর তারা আবারও ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নতুন করে এলাকা ছাড়ার হিড়িক পড়ায় লেবাননের রাস্তাগুলোতে যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোর মতো ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যে যা পারছেন সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করছেন। টায়ার জেলার প্রধান গোলচত্বরে যখন শত শত গাড়ি যানজটে আটকে ছিল, ঠিক তখনই সেখানে একটি কফি স্ট্যান্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইসরায়েল।
এ হামলায় ঘটনাস্থলেই একজন প্রাণ হারান এবং অনেকেই আহত হন। উল্লেখ্য, এই গোলচত্বরটিই ছিল শহর থেকে বের হওয়ার প্রধান পথ।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। যারা মাত্র কয়েকদিন আগেই বাড়ি ফিরে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, তাদের আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এই বাস্তুচ্যুতি সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা