জুডিশিয়াল অর্ডার অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ : মেয়র শাহাদাত

আদালতের আদেশ মতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নিজের মেয়াদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, আমি পাঁচ বছরের জন্য মেয়র, এক-দেড় বছরের জন্য নই। 

বর্তমান মেয়রের মেয়াদকাল নিয়ে চলমান নানা সমালোচনা ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. শাহাদাত এসব কথা বলেন।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিমের সঙ্গে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচন কমিশন ওই সময় রেজাউল করিমকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা করেন। পরবর্তী ডা. শাহাদাত হোসেন নির্বাচনে নানা অনিয়ম নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ এনে  তা বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ওই মামলার রায়ে ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেন বিচারক। আদালতের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ৩ নভেম্বর শাহাদাত মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রেজাউল করিমের প্রথম সাধারণ সভা থেকে হিসেব করলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৫ বছর পূর্ণ এবং কর্পোরেশনের পরিষদের মেয়াদ শেষ হবার কথা। 

ডা. শাহাদাত এ প্রসঙ্গে বলেন, মামলায় আদালতের যে আদেশ রয়েছে তাতে নির্বাচন বাতিল এবং আমাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তো পাঁচ বছরের জন্য মেয়র, এক-দেড় বছরের জন্য নই। এটা তো এমন নয় যে, কেউ হঠাৎ করে মারা গেছেন সেজন্য উপ-নির্বাচন হয়েছে। আমি তো একটা পূর্ণ নির্বাচনের প্রার্থী ছিলাম। যেখানে আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রেজাউল করিম যে আমার সাড়ে তিন বছর খেয়ে ফেলেছে এটা তো আমার ন্যায্য অধিকার। এই অধিকার থেকে তো কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। আমার মেয়াদ তো ১৬ মাস নয়। রেজাউল করিমের প্রথম সভা আমার প্রথম সভা নয়। আমার প্রথম সভা ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর।

ডা. শাহাদাত বলেন, তারপরও আমি বার বার বলেছি, নির্বাচনের ঘোষণা আসলে আমি পদত্যাগ করবো। আমি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। কারণ এটা আমার সন্তুষ্ঠির একটা বিষয়। আমি চল্লিশ বছর ধরে রাজনীতি করে আসছি। আমি আমার জনপ্রিয়তা কতটুকু আছে তা আমি যাচাই করতে চাই, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এটা আমার দেখার খুবই দরকার। আমি যে কোন মুহূর্তে যে কোন প্রার্থীর বিরূদ্ধে নির্বাচন করার জন্য  প্রস্তুত আছি। আমি সবসময় গণতন্ত্রকে সম্মান দিয়ে এসেছি। এই গণতন্ত্রের জন্য বিগত ১৭-১৮ বছর লড়াই করেছি, জেল খেটেছি, মামলা খেয়েছি, নিষ্পেষণ-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি এই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাবো।

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে জুডিশিয়াল অর্ডারে আজ আমি এখানে মেয়র হিসেবে এসেছি সেই অর্ডার অনুযায়ী চাইলে ২০২৯ পর্যন্ত আমি থাকতে পারি। সেই অর্ডারের ব্যত্যয় ঘটাতে পারে একমাত্র আরেকটি জুডিশিয়াল অর্ডার কেউ যদি আদালত থেকে আমার বিরূদ্ধে নিয়ে আসতে পারে অথবা আমি নিজে যদি পদত্যাগ করি। আমি বার বার বলেছি আমি যে কোন সময় পদত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত যদি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়।