বিশ্বকাপের আঙিনায় পর্তুগাল মানেই সোনালি প্রজন্মের লড়াই এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মহাকাব্য। পর্তুগিজদের ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ। নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’খ্যাত কিংবদন্তি ইউসেবিওর ৯ গোলের ওপর ভর করে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যা এখন পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ইউসেবিওর অতিমানবীয় ৪ গোলে ৫-৩ ব্যবধানের জয়টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হয়ে আছে। যদিও সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের, তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করেছিলেন পর্তুগিজরা।
এর ঠিক ৪০ বছর পর, ২০০৬ বিশ্বকাপে লুইস ফিগোর নেতৃত্ব এবং তরুণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ছোঁয়ায় আবারও সেমিফাইনালে পা রাখে পর্তুগাল। সেবার নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের বিদায় করে দিলেও সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। পরে স্বাগতিক জার্মানির কাছে হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে মিশন শেষ করেন সেলেসাওরা।
১৯৬৬ ও ২০০৬ সালের সেই স্মৃতিময় সাফল্যের পর পর্তুগাল এখন বিশ্ব ফুটবলের এক নিয়মিত পরাশক্তি। তবে ইউসেবিও কিংবা লুইস ফিগোরা যা করতে পারেননি, সেই আক্ষেপ মেটাতেই গত দুই দশক ধরে লড়ে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা এই নক্ষত্রের হাত ধরে পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরো জিতলেও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা এখনো তাদের কাছে অধরা। তাই অতীতের সেই সেমিফাইনালগুলোর গৌরবকে এবার ফাইনালের মঞ্চে রূপান্তর করাই হবে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য।
পর্তুগালের জন্য এবারের বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিনের কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের বিদায়ের পর রবার্তো মার্টিনেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলে এসেছে নতুন প্রাণ। মার্টিনেজ কেবল জয় নয়, বরং আক্রমণাত্মক ফুটবলের ওপর জোর দিয়েছেন। বাছাই পর্বের শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে তারা এবার বিশ্বকাপে পা রাখছে।
রবার্তো মার্টিনেজের দর্শন
৫৩ বছর বয়সী মার্টিনেজ এর আগে বেলজিয়ামকে দীর্ঘ সময় বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষে রেখেছিলেন। পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে বয়স কোনো বাধা নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা। ক্রিশ্চিয়ানো আমাদের নেতা, কিন্তু মাঠের ১১ জনকেই হতে হবে বিজয়ী।’ তিনি সাধারণত ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পছন্দ করেন, যেখানে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য থাকে।
মূল ভরসা রোনালদো ও ফার্নান্দেজ
৩৯ বছর বয়সেও পর্তুগালের আক্রমণভাগের নিউক্লিয়াস ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এসে তিনি নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন। তবে মাঝমাঠ থেকে গোলের জোগান দেওয়া এবং আক্রমণ গড়ে তোলার মূল কারিগর ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এ তারকার নিখুঁত পাসিং এবং দূরপাল্লার শট যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।