পিরোজপুর জেলার জিয়ানগরে ভুয়া হোমিও চিকিৎসককে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তার সহযোগীকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সরকারি ইন্দুরকানী কলেজ মোড় সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: পারভীন, জিয়ানগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আটক এম. এ. আকবর (৩৭) চিকিৎসক না হয়েও বেশ কিছুদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি ইন্দুরকানী কলেজ মোড় সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে বিডিএস ডিগ্রি ব্যতীত ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে টিউমার, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, হৃদরোগ, হার্টব্লক, কিডনিতে পাথর, পিত্ত পাথরসহ অন্যান্য বিষয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। এছাড়াও ঢাকা হোমিও ক্লিনিকের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের QUANTUM RESONACE MAGNETIC ANALYZER ডিভাইস ব্যবহার করে সকল ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সময় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাতানাতে আটক করা হয়। এ সময় অনুমোদন বিহীন হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে অর্থ আদায় এবং স্বাস্থ্যহানীর বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
এ সময় তার সহযোগী রতন কুমার শীরের (৪০) বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডে সুবিধা প্রাপ্তির প্রলোভন দেখিয়ে নগদ অর্থ সংগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় চিকিৎসক এম. এ. আকবরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং সহযোগীকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এম. এ. আকবর নামে একজন ভুয়া চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে বৈধ সনদ ছাড়াই চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে মঙ্গলবার রাতে তাকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে তার সহযোগীকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।