ছয় দশক অপেক্ষার অবসান

আমরা কয়েক বছর ধরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু আসলে ১৯৬১ সালে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৯৬২ সালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী রূপপুরকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। প্রাথমিক সমীক্ষায় এর সম্ভাব্যতা নিশ্চিত হলেও, নানাবিধ কারণে কয়েক দশক ধরে তার অগ্রগতি ধীরগতিতে চলে। স্বাধীনতার পর, প্রতিটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ সমৃদ্ধ দেশের কাছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে ফরাসি কোম্পানি দ্বারা এর ফিজিবিলিটি স্টাডি হলেও, শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ১৯৮১ সালে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি গঠিত হয়ে পারমাণবিক গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ শুরু করে। পরবর্তীকালে ১৯৮৬ সালে সাভারে ৩ মেগাওয়াট ট্রিগা মার্ক টু (TRIGA Mark-II) ) গবেষণা রিঅ্যাক্টর চালু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭-৮৮ সালে, লাহমেয়ার ইন্টারন্যাশনাল যেটা হলো, একটি শীর্ষস্থানীয় জার্মানভিত্তিক কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে পরিকল্পনা এবং পরামর্শ সেবা প্রদান করে। বাংলাদেশেও এই কোম্পানির অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজের ইতিহাস রয়েছে।

লাহমেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ও সুইস মোটর কলম্বাস ৩০০-৫০০ মেগাওয়াট সুপারিশ করে। এর আনুমানিক দুই বছর পরে ১৯৯০-৯৬ সালে প্রাক-প্রস্তুতি শুরু হলেও, সীমাবদ্ধতায় থেমে যায়। এরপর ১৯৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতি পারমাণবিক শক্তিকে বিকল্প উৎস হিসেবে অনুমোদিত হলে, ১৯৯৭-২০০০ সালের দিকে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে এই প্রকল্প ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এরপর ৬০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু। তারপর ২০০৫ সালে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং ২০০৭ সালে দুটি ৫০০ মেগাওয়াট ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এস করিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৮ সালে সরকার প্রকল্পে চীনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং পরবর্তীকালে IAEA ২০০৯-২০১১ সময়সীমায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ঘোষণা করে। এভাবেই এর কাজ শুরু হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিমিত্ত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৭৭-১৯৮৬ সালে ‘মেসার্স সোফরাটম’ কর্র্তৃক একটি সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন চালানোর পরে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন যৌক্তিক বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে একনেক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ১২৫ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৮৭ সালের দিকে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের দুটি কোম্পানি কর্র্তৃক পুনরায় সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন করা হয়। ফলাফল হিসেবে ৩০০-৫০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

দীর্ঘ ছয় দশক থেকে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা আলোচনার শুরু হলেও, ২০২৬ সালে তা আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে। জাতির জন্য এটি বিরাট সুখবর। পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের সূচনা, বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক কৌশলগত পরিবর্তনের সূচনা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। এই বাস্তবতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দুই দশকে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। শিল্পায়ন, নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রপ্তানি খাতের বিকাশের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই চাহিদা পূরণের জন্য দেশকে এখনো প্রধানত গ্যাস, তেল এবং কয়লার ওপর নির্ভর করতে হয়, যার বড় অংশ আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই নির্ভরতা কমানোর একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে পাবনা জেলার রূপপুর নামক এই ছোট এলাকায়, দিনের আলোতেও সেখানে মানুষের দেখা মিলত না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের ফলে ১৯১০ সালে ব্রিটিশ সরকার উত্তাল পদ্মা নদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করে। সেই সময় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত হয় দেশের প্রথম রেলওয়ে জংশন স্টেশন, রেলওয়ের কার্যালয়, কোয়ার্টারসহ নানা ধরনের স্থাপনা। রেল যোগাযোগ হয়ে ওঠে নির্ভরতার প্রতীক। ১৯১৫ সালে একযোগে চালু হয় নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো, যার মাধ্যমে ঈশ্বরদীর নিভৃত গ্রাম রূপপুরে প্রথম উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে দ্বিতীয় দফা পরিবর্তনের শুরু রূপপুরের। নির্মাণকাজের জন্য রূপপুরে আসতে থাকেন রাশিয়ার নাগরিকরা। বদলাতে থাকে রূপপুরের রূপ। রাশিয়ানদের বসবাসের জন্য তৈরি করা হয়, বড় বড় দালানকোঠা। একই সঙ্গে গড়ে ওঠে বিপণিবিতান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, হাসপাতাল ও বিনোদনকেন্দ্র। নিভৃত দিয়ার সাহাপুর ও রূপপুর গ্রাম পরিণত হয় আলো ঝলমলে ছোট্ট শহরে। স্থানীয় লোকজনের অনেকে রাশিয়ান ভাষায় কথা বলছে। এমনকি আমিও একবার পাবনা ঘুরতে গেলে একই সুইমিং পুলে সাঁতার কেটেছিলাম তাদের সঙ্গে। সার্বিক দিক বিবেচনায় নিলে প্রথমত, জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারমাণবিক জ্বালানি একবার চুল্লিতে লোড করার পর, প্রায় দেড় বছরের মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। এটি নিঃসন্দেহে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়ক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব অনেকাংশে কমে যায়। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ব্যয়ের স্থিতিশীলতা এই প্রকল্পের একটি বড় অর্থনৈতিক সুবিধা। প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও শিল্প খাতে চাপ সৃষ্টি করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।

রূপপুর প্রকল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ শুরুতে ৬ টাকা ধরা হয়েছিল, বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবু দীর্ঘমেয়াদে এটি পূর্বানুমানযোগ্য ব্যয় কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম। এই পূর্বানুমানযোগ্যতা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, শিল্প খাতে এর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিল্প উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে অনেক সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা আসবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং রপ্তানি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। এর ফলে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি পাবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। চতুর্থত, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। পারমাণবিক প্রযুক্তি একটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন খাত। রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। পঞ্চমত, পরিবেশগত দিক থেকেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ করে, ফলে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান।

পরিবেশ দূষণ কমলে স্বাস্থ্য ব্যয়ও কমে, যা পরোক্ষভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি সবুজ ও টেকসই অর্থনীতি গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকল্পের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং ঋণ নির্ভরতা। রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশ বিদেশি ঋণের মাধ্যমে এসেছে। এই ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলে, চাপ আরও বাড়তে পারে। যদি উৎপাদন ব্যয় বেশি হয়, তাহলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। তখন বাজেট ঘাটতি বাড়বে। আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ালে, শিল্প খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ পড়বে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এখানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও একটি বড় অর্থনৈতিক বিবেচনা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় অত্যন্ত উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যার জন্য নিয়মিত ব্যয় করতে হয়। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এসব দিক সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা অপরিহার্য। যদি এই ক্ষেত্রগুলো দুর্বল হয়, তাহলে প্রকল্পের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে। সবকিছু বিবেচনা করলে বলা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনা, দক্ষ নীতিনির্ধারণ এবং শক্তিশালী তদারকির ওপর। সবশেষে বলা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম কেবল একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা। যদি এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, শক্তিশালী এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক

 liplisa7@gmail.com