হাতের মুঠোয় বিশ্ব

ইন্টারনেট পৃথিবীর সব কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোনকে এক বিশাল জালের মতো সংযুক্ত করেছে। এটি কোনো ব্যক্তির একক আবিষ্কার নয়, বরং এটি বহু বিজ্ঞানী ও গবেষকের কয়েক দশকের যৌথ প্রচেষ্টার ফল। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, যার নাম ছিল ARPANET (Advanced Research Projects Agency Network). ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন সামরিক সংস্থা তাদের গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এমন একটি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি, আরপানেট আনুষ্ঠানিকভাবে TCP/IP  প্রটোকল ব্যবহার শুরু করে। এই দিনকেই ইন্টারনেটের জন্ম হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৯০ সালে টিম বার্নাস-লি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ বা WWW  আবিষ্কার করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ব্রাউজার ব্যবহার করে ইন্টারনেট সহজে ব্যবহার করতে শুরু করে, যা তথ্যপ্রবাহের দুয়ার খুলে  দেয়। আরপানেট থেকে শুরু হয়ে packet switching Ges TCP/IP    প্রটোকল ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক ইন্টারনেট গড়ে ওঠে। আজ ইন্টারনেট অনলাইন তথ্য, ব্যবসা, বিনোদন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ক্রমাগত বৃদ্ধি  পেয়ে চলেছে।  ২০০২ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০০ মিলিয়ন। এখন সেটা এসে দাঁড়িয়েছে ২.২ বিলিয়নে। ভবিষ্যতে কত হবে, সেটা কেউ ভাবতে পারছেন না। এমন একদিন হয়তো আসবে, যখন ইন্টারনেট যে ব্যবহার করবে না, তাকে মানুষ পাগল বলবে। ওয়েবকেম নিঃসন্দেহে একটি আশ্চর্য আবিষ্কার, যদিও আমাদের কাছে তা আশ্চর্যের মনে হয় না।