সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রক্রিয়া এবং পরিধি নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব আনলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকে চায়ের দোকান পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে সেই সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই। সেই চর্চার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমি এবং আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম যে, আমরা একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি করতে চাই। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি হবে আমাদের রুল ২৬৬ অনুসারে। সেই কমিটির বিষয়ে আমরা ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে বিএনপির সংসদ সদস্য আছেন, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য আছেন, গণসংহতির আছেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিরও সংসদ সদস্য আছেন এবং ১২ জনের তালিকায় স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যদি আমি পারসেন্টেজ হিসেবে যাই ২৬ শতাংশ আসে। সেখানে আমরা ওনাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি। এখানে ১২ জনের মধ্যে বিএনপি সাতজনের নাম দিয়েছে, পাঁচজনের নাম অন্য দলের থেকে দেওয়া হয়েছে এবং এখন ওনাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম দেওয়া হয়, তাহলে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য এই কমিটি সংক্রান্ত বিষয় আমরা উপস্থাপন করতে চাই। আমরা চাই ওনাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনের নাম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা এই কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদ সামনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’
এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আইনমন্ত্রী যে কথাটা বললেন যে, বিএনপি থেকে সাতজন আর অন্যান্য সংগঠন থেকে পাঁচজন এই ১২ জনের একটা তালিকা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে প্রস্তুত করেছেন। বিরোধী দলের নেতা আপনাদের অপজিশন থেকে পাঁচজনের তালিকা চাচ্ছেন। সুতরাং এই ১৭ জন নিয়ে ওনারা যে বিশেষ কমিটিটা করবেন, তো দয়া করে যদি আপনি আপনাদের পাঁচজনের নামের তালিকা দেন তাহলে হয়তো কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটা এগিয়ে যাবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উনি যথারীতি সংসদ নেতার সালাম দিয়েই কথা বলেছিলেন। তো আমি ওনাকে বলেছি যে, এই বিষয়টি আমাদের মাঝে একটু আলোচনার বিষয় আছে। কারণ এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স আছে আমাদের। তা আমরা আলোচনা করে জানাব। এটা আজকেই হয়ে যাবে বিষয়টি এমন হবে না। আর কি এই সেশনটাতে আমরা এটা মত দিতে পারব না। কারণ আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে এমেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল। ওনাদের যে প্রস্তাব ওনারা দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। কিন্তু আমরা পরে জানাব। এখন আমরা কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এটাতে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব জুলাই সনদের আলোকে। সুতরাং আমাদের যদি এ জন্য অপেক্ষা করতে হয়, আমাদের পরবর্তী সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও কোনো অসুবিধা হবে না।’
এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা তাহলে সংসদ সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে যে, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের সদস্য প্রস্তুত আছে এবং বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের নাম বা এই সম্পর্কিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে একটা ডিসিশনে আসবে এবং সে জন্য ট্রেজারি বেঞ্চ রেডি রয়েছে।’