টেকনাফে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে। বুধবার ২৯ এপ্রিল বিকেলে শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় মুহূর্তেই টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক গাছ-পালা ও ঘড়বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে ঝড়ের তাণ্ডবে লবণের মাঠ ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী এই ঝড়ে অন্তত ২ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ছাড়াও গাছপালা, লবণ চাষ ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ের প্রভাবে অনেক বাড়ির টিনের চালা বাতাসে উড়ে গেছে। কোথাও আবার সম্পূর্ণ ঘর উড়ে গিয়ে পাশের বাড়ির ওপর গিয়ে পড়েছে। এমনকি বাড়ির আঙ্গিনায় টিন বাতাসে উড়ে গেছে। এরপর থেকে টেকনাফ উপজেলায় বিদ্যুৎ নেই। বৈদ্যুতিক খুঁটির কোন ধরনের ক্ষতি নাহলেও ঝড় বাতাসের কারণে বিদ্যুত না থাকায় পুরো উপজেলা অন্ধকারে।

এর মধ্যে টেকনাফ সদর, হ্নীলা ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় সড়ক ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়ির চালের ওপর গিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে খোলা আকাশের নিচেই বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার।

এছাড়াও টেকনাফ সদর লম্বরী, লেঙ্গুরবিল, মিঠাপানির ছড়া ও বাহারছড়া ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে এই এলাকায় কোথাও কোথাও অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে প্রাচীর ধসে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক সড়কে গাছ পড়ে যানচলাচল বন্ধও ছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্ব স্ব এলাকার সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে এসে প্রবল দমকা হাওয়া শুরু হয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয় কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের তীব্রতায় টিনের ঘরবাড়ি উড়ে যায় এবং অনেক গাছ উপড়ে পড়ে। সেই সঙ্গে লবনের মাঠের চাষ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সবমিলিয়ে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার ফরিদ আলম বলেন, হঠাৎ দমকা হাওয়ার গতিবেগ এসে আমার ঘরের টিন বাতাসে উড়ে নিয়ে যায়। বাড়ির আঙ্গিনা ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমার।

এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, টেকনাফে হঠাৎ করে বাতাসের গতি বেশির কারণ গাছপালা ভেঙেছে। বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহযোগিতা প্রধান করা হবে।