হজবিধি লঙ্ঘনে অভিযান জোরদার, মক্কায় গ্রেপ্তার একাধিক বিদেশি

হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সৌদি আরবের মক্কায় অনুমতিপত্র ছাড়াই প্রবেশ ও অবস্থান ঠেকাতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনুমতিবিহীন হাজিদের আটক করছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ নিশ্চিত করতেই এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রবেশ অনুমতিপত্রের বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগে এক ইয়েমেনি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মক্কা পুলিশ।

একই সঙ্গে হজের অনুমতি ছাড়াই মক্কায় প্রবেশ ও অবস্থান করার দায়ে পাঁচ মিশরীয় নাগরিককেও আটক করা হয়েছে।

এদিকে হজ নিরাপত্তা বাহিনী আরও এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি পাঁচজন সহযাত্রীকে নিয়ে অনুমতি ছাড়া মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

অন্য এক ঘটনায়, একটি পণ্যবাহী গাড়ির গোপন কুঠুরিতে দুই মিশরীয় নাগরিককে বহন করে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করায় আরেকজনকে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া ছয়জন প্রবাসীকে বহন করে হজবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক মিয়ানমার নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনে পাবলিক প্রসিকিউশনে সোপর্দ করা হয়েছে। 

হজ মৌসুম শুরুর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালন বা তার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। ১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভিজিট ভিসায় মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ বা অবস্থান করলেও এই জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের জন্য পরিবহন বা থাকার ব্যবস্থা করে দিলে সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ বাড়বে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং তাদের ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এ ছাড়া এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হবে।

জননিরাপত্তা অধিদপ্তর নাগরিক ও প্রবাসীদের হজবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং কোনো লঙ্ঘনের তথ্য থাকলে ৯৯৯ নম্বরে কল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে।