নরসিংদী 

পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় শিক্ষার্থীর ঘাড়ে ১২টি বেত্রাঘাত

নরসিংদীর রায়পুরায় পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় দশম শ্রেণির ছাত্রী সাইমা আক্তারকে (১৫) উপর্যুপরি বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তারই স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। সাইমা রায়পুরা উপজেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল হেরা একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ওই ছাত্রীকে রাজধানীর এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. ফাইজ উদ্দিন। তিনি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণিত বিষয়ের শিক্ষক।

আহত শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ গ্রামের আজিজুল হকের মেয়ে।

আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম পর্ব পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় সাইমা গণিতে নম্বর কম পেয়েছে। পরদিন বিদ্যালয়ে গেলে গণিতের শিক্ষক ফাইজ উদ্দিন শাসন করতে গিয়ে সাইমার ঘাড়ে পরপর ১২টি বেত্রাঘাত করেন। বাড়িতে গিয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানান। 

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর শরীরে জ্বর আসে এবং মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ে। তার অবস্থার অবনিত হতে থাকলে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ফাইজ উদ্দিন বলেন, সে গণিত পরীক্ষায় নম্বর কম পেয়েছে, তাই শাসন করেছি। তবে তাকে বেত্রাঘাত করিনি। তার অসুস্থ হওয়ার সংবাদ শুনে বাসায় গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। ঢাকায় যাচ্ছি তার চিকিৎসার খোঁজ নিতে।

আল হেরা একাডেমির প্রধান শিক্ষক পনির হোসেন জানান, ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা অথবা বেত্রাঘাত করার কোন সুযোগ নেই। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে বরখাস্ত করার নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ শিক্ষার্থীর যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করবে। এছাড়াও আইনগত সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলা হয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।