সংবিধান সংস্কারের দাবি

গণবিক্ষোভসহ ৩ মাসের কর্মসূচি ১১ দলের

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়ে তিনি মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আগামীকাল শনিবার গণবিক্ষোভের মাধ্যমে শুরু হওয়া কর্মসূচি শেষ হবে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে। মহাসমাবেশের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ঘোষিত কর্মসূচির সব শেষ সমাবেশ হবে আগামী ২৫ জুলাই রাজশাহীতে।

গতকাল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মুখপাত্র ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি জানান, দেশের সাতটি প্রধান বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক সমাবেশ করবে জোট। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১০ মে চট্টগ্রামে একটি সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।

নতুন কর্মসূচির বিষয়ে হামিদুর আযাদ বলেন, বিভিন্ন মহানগরীতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান আছে, যা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রতি মাসেই কর্মসূচি রেখেছি। ঈদের আগে একটি কর্মসূচি হবে। সমাবেশে সিটি করপোরেশন ও আশপাশের জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক লোক সমাগম করা হবে। আমরা আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা যাবেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরও কার্যকরী করার জন্য জেলাভিত্তিক একটি সফর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি মহানগরী ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। ঢাকায় বাজেট প্রতিক্রিয়ার কর্মসূচি পালন করা হবে। এ ছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ¦ালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়া দাবির মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা যা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও দখলের অশুভ পরিকল্পনা হচ্ছে মন্তব্য করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই ক্যাম্পাসগুলো মুক্ত করেছিল। এখন সেই ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারের এজেন্সিসহ বিভিন্ন পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্রসমাজকে সচেতন ও সজাগ করতে হবে। সে জন্য ১১ দলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি করা হবে। পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে প্রত্যেক দল গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠের আন্দোলন চলমান থাকবে। সামনের দিনে সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের কণ্ঠ ও রাজপথে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হবে। আন্দোলনে দেশবাসীর সমর্থন, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।