সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

সরকারের মন্দ কাজে বিরোধিতা করে যাব

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের সব ভালো কাজে সহযোগিতা প্রদান এবং ভুল দেখলে বিরোধিতা করব। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে সংগঠিত প্রত্যেক অপরাধের বিচার করতে হবে। কারও চোখ রাঙানোকে পরোয়া করি না। ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত এখন তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’ সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ৪৩ মিনিটের বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনীতি ও সংকট থেকে শুরু করে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতি গঠনে গুরুত্বারোপ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের কৃষক আজ চরম সংকটে রয়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, কৃষকরা ‘হাঁসফাঁস অবস্থায়’ আছেন। কারণ বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বেড়ে গেলেও উৎপাদিত ফসলের দাম সেই অনুপাতে বাড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে কৃষি উপকরণ কিনতে হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাঠপর্যায়ে কৃষক কমদামে ফসল বিক্রি করলেও রাজধানীতে সেই পণ্য কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় কৃষক বাধ্য হয়ে কমদামে ফসল বিক্রি করেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সরকারি সহায়তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।

 দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। এরা দলের নাম ভাঙানো দুর্বৃত্ত।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নিজ নির্বাচনী এলাকা রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের অবস্থা তুলে ধরে তিনি এটিকে ‘সিটমহল’ উল্লেখ করে বলেন, এলাকার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র যানজট ও সরু রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও খালের দখল, ভাঙাচোরা সড়ক এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামোসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।