নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় গিয়ে সর্বপ্রথম উপস্থিত সকলের সামনে চারটি নসিহত পেশ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, তিনি রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় এলেন, লোকেরা তাকে দেখার জন্য ছুটে যাচ্ছিল এবং বলছিল, আল্লাহর রাসুল (সা.) এসেছেন! আল্লাহর রাসুল (সা.) এসেছেন!
আমিও সবার সঙ্গে তাকে দেখতে গেলাম। সর্বপ্রথম তার মুখে আমি যা শুনেছিলাম, তা হলো, তিনি বলেছিলেন, হে লোকসকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো, খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো, তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইবনে মাজাহ) এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো। নবীজি (সা.) প্রথমে সালামের ব্যাপক প্রচলনের কথা বলেছেন। এর মানে তিনি ছিলেন শান্তিপ্রিয়। তিনি অশান্তি পছন্দ করতেন না। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা ছিল তার লক্ষ্য। তিনি আজীবন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। মদিনাতেও তিন ধর্মের লোকদের সঙ্গে নিয়ে শান্তিচুক্তি করেছেন। মক্কার মুশরিকদের সঙ্গেও তিনি শান্তিচুক্তি করেছেন। মদিনায় পৌঁছেই তার প্রথম কথা ছিল শান্তির বাণী পৌঁছে দাও।
এরপর বললেন মানুষকে খাবার খাওয়াও। খাদ্য সংকট দূর করো। খাদ্যদ্রব্য মানুষের নাগালে নিয়ে আসো। মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দাও। আগে তো পেট ঠিক থাকতে হবে। আরবরা বলে, কারও হৃদয়ে পৌঁছতে হলে আগে তার পেটে পৌঁছতে হয়। তাই শান্তির কথা বলার পরই রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, খাদ্য সমস্যা দূর করো। এরপর আত্মীয়তার বন্ধন মজবুত করার কথা বলেন। নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করলে শান্তি থাকে না। তাই আত্মীয়তার বন্ধনকে শক্ত করার নসিহত করেন।
সব শেষে বলেন নামাজের কথা। আমরা সাধারণত কারও সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই বলি নামাজ পড়েন, দাড়ি রাখেন, টুপি দেন, বোরকা পরেন। এসব কঠিন কথা বলে মানুষকে দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দিই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে বললেন শান্তি প্রতিষ্ঠা করো, তারপর খাদ্য নিশ্চিত করো, তারপর আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করো। সব শেষে বললেন নামাজের কথা।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক