বোরো ফসল দিয়াই চলতো খোরাকি,এহন খাইয়্যাম কি!

এক বোরোধানের ফসল দিয়াই আমাদের সারা বছরের খোরাকি (খাবারের চাল) ওঠে, কিন্তু গত কয়েকদিনের  টানা বৃষ্টিতে আমাদের ৪৫ কাঠা বোরোধানের ক্ষেত এহন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এসব জমির ধান আর ঘরে তুলতে পারবো না। এহন আমরা সারা বছর খাইয়্যাম কি? 

এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বিল খেরুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ ও আব্দুস ছাত্তার। একই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বোরোধানের জমির পাশে বিষণ্ণ মনে বসে থাকা ওই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমানেরও একই অবস্থা।

ভারী কণ্ঠে তারা বলেন,আমাদের এলাকায় বছরে একটা ফসলেই হয়,তা হলো বোরোধানের আবাদ। এই এক ফসলের ওপরেই আমাদের সারা বছরের খাবার ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের আর্থিক যোগান নির্ভরশীল। কিন্তু  এবার ভারি বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সারা বছর কীভাবে চলবো তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। যদি সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা ও ঋণের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

আল-আমিন, সাইফুল ইসলাম,আজিজুল হক কয়েকজন কৃষক জানান, খেরুয়া বিলের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। যেকারণে বৃষ্টির পানিতে শতশত একর বোরোধানের জমি তলিয়ে গেছে। বিল সঙ্গে সংযোগ খালটি খনন করা হলে জলাবদ্ধ নিরসন হবে। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল সুরক্ষা পাবে।

তাই আমরা দ্রুত খালটি খননের দাবি জানাচ্ছি।

শুধু রাজিবপুর ইউনিয়নেই নয়,উপজেলার উচাখিলা, সরিষা ও আঠারবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের বোরোধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব অঞ্চলেরও মূল কারণ জলাবদ্ধতা, তারাও খাল খননের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। যার মধ্যে ৮০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

গত দুই দিন বৃষ্টি প্লাবিত উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখাকালে কৃষকরা জানায়, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে এলাকার  নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আজাদ সুমি বলেন, প্রায় ৮০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির পানিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি দুই-একদিনের মধ্যে এসব জমির পানি নেমে যায় তাহলে ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। এছাড়া প্রত্যেক এলাকায় আমাদের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে উজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।