বিজয়নগর

চান্দুরা-সিঙ্গারবিল ২২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দ, সীমাহীন দুর্ভোগ

টেকসই উন্নয়ন ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও জলাবদ্ধতা, ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। 

বিজয়নগর উপজেলার প্রধান এই সড়কটি চান্দুরা-সিঙ্গারবিল আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে পরিচিত। এটি পাশ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আখাউড়া স্থলবন্দর ও সিলেট-কুমিল্লাগামী যানবাহনও বিকল্প পথ হিসেবে এ সড়ক ব্যবহার করে থাকে। সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার, যার মধ্যে বিজয়নগর অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার।

সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গর্তে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ে পরিণত হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও রোগীরা।

শনিবার (৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর ও সিঙ্গারবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে উঁচু-নিচু অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও ডেবে গেছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে সড়কে দীর্ঘ সময় জমে থাকছে। পাশাপাশি অনেক বাসিন্দা বাড়ির পানি সরাসরি সড়কে ফেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ইটের খোয়া দিয়ে কিছু গর্ত ভরাট করা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি; বরং সড়কের অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টির কারণে গর্তগুলো পানিতে ডুবে আছে। যানবাহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সিএনজি চালক রিবন ও সুমন মিয়া বলেন, সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। প্রায়ই যানবাহন গর্তে আটকে যাচ্ছে, গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

চম্পকনগর ও চান্দুরা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুরো সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী।

কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানবাহন পাওয়া যায় না, আবার অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়রা চান্দুরা-সিঙ্গারবিল-আখাউড়া সংযোগ সড়কটি এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি তুলে বিষয়টি সংসদেও উপস্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর- বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার ও উন্নয়ন করে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।