আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় বিচারে সাজা হয় মাত্র ৩ শতাংশের। অন্যদিকে, ৭০ শতাংশ মামলায় অভিযুক্ত আসামি খালাস পান। উদ্বেগজনক এই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায়। এমনটি কেন হচ্ছে? এর প্রকৃত কারণ কী? গবেষণার তথ্য বলছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির কথা থাকলেও, গড়ে সময় লাগছে ৩ বছর ৭ মাস। কেউ কেউ বলছেন বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল প্রমাণ, সাক্ষীর অনুপস্থিতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত শনিবার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণাটির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির উদ্যোগে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
গবেষণায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০০০ অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও, বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে শুনানির তারিখ পড়ছে ২২ বার। বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘন ঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণব্যবস্থা এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট এলিনা খান জানাচ্ছেন, ‘প্রায়শই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা আসামিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে ভুক্তভোগী বিচার পায় না।’ আমরা এই অবস্থার অবসান চাই। যেকোনো মূল্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচারে আসামির শাস্তি নিশ্চিত হোক সেটা চাই। এটা না হলে সমাজের অন্ধকার দূর হবে না। আর নারী ও শিশু যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে এই সমাজকে মুক্ত সমাজ বলাও যাবে না।
পৃথিবীতে এমন কিছু প্রাণী আছে, যাদের দৃষ্টিশক্তি নেই। বিশেষ করে, গুহা বা মাটির নিচে বসবাসকারী প্রাণীর মধ্যে এটি বেশি। কিছু সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণীর চোখ থাকে না। এসব প্রাণী সাধারণত স্পর্শ, গন্ধ বা বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে চলাফেরা ও শিকার করে। আবার সাপ, কেঁচো, পিঁপড়া, জেলিফিশ এবং অক্টোপাসের মানুষের মতো কান নেই। অন্যদিকে, মাছের জিভ থাকে না। কিন্তু কুমিরের জিহ্বা আছে। সেটি মুখের তলদেশের সঙ্গে অচলভাবে যুক্ত, তাই জিভ নড়াচড়া করতে পারে না। পাশাপাশি পিপিড প্রজাতি ব্যাঙের জিহ্বা থাকে না। অথচ মানুষের মধ্যে সব আছে। তারা দেখে, শোনে, তৃপ্তি পায়, অনুভব করে এবং প্রয়োজনে সাড়া দেয়। হয়তো প্রাণীশ্রেষ্ঠদের এ কারণে সবকিছু বেশি। বিশেষ করে, পুরুষ সম্প্রদায় অসম্ভব লোভী। অন্য প্রাণী তো দূরের কথা, স্বার্থে আঘাত লাগলে শিশুহত্যা এবং নারীকে ধর্ষণ করতেও তারা ছাড়ে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী, জীবনে কোনো না কোনো সময়, স্বামী বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গী দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার। অধিকাংশ পুরুষ প্রাণিকুলের বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে, নারী-শিশুকে নির্যাতন করছে। তাদের একমাত্র অবলম্বন আদালত। যার মাধ্যমে সে পুরুষ অপরাধীর উপযুক্ত বিচার প্রত্যাশা করে। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত অসহায় হয়, আইনি মারপ্যাঁচের কারণে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন-আদালত থাকে। সেটি মানুষকে, বিশেষ করে নারী-শিশুকে রক্ষা করে অন্যায়-অত্যাচার থেকে। আসামি খালাস নয়, আমরা চাই অপরাধীর নিশ্চিত শাস্তি।