বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় রাস্তা

টেকসই উন্নয়ন আর সংস্কারের অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সড়কের সৃষ্ট হওয়া গর্তে পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। বিপাকে পড়েছেন যাত্রীসাধারণ ও পরিবহন চালকরাও। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার প্রধান সড়কের বিজয়নগর অংশে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরা। এর মধ্যে চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর, সিঙ্গারবিল এলাকায় খানাখন্দ বেশি।  রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়কটির  কোথাও দেবে গেছে, কোথাও আবার ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত এখন ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে, যা চলাচলকে করে তুলেছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। মেরামতে বাড়ছে ব্যয়। এদিকে সড়কের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানি সরতে পারছে না। অপরদিকে সড়কের অধিকাংশ স্থানে সড়কসংলগ্ন বাসিন্দারা তাদের বাড়ির পানি নিষ্কাশনের পাইপলাইন সড়কে দিয়ে রেখেছে। এ কারণে বাসাবাড়ির পানি এসে সড়কটি সারা বছরই কর্দমাক্ত থাকে। 

পথচারী এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া জানান, সড়কটি খুবই ভাঙাচোরা আর বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো তলিয়ে গেছে।  সড়ক খারাপ হওয়ায় গাড়ির সংকট আর অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

সিএনজিচালক রিবন ও সুমন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা। প্রায়ই যানবাহন গর্তে আটকে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর চলাচলের কষ্টের কথা তো বলে শেষ করা যাবে না।

চম্পকনগর ও চান্দুরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। বিশেষ করে আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের মধ্যে বিজয়নগর অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় এখন পুরো সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কৃষক ফারুক মিয়া জানান, উপজেলার প্রধান সড়ক ভাঙা থাকার কারণে কৃষি পণ্যগুলো বাজারজাত করতে গিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে যানবাহন মিলছে না। এদিকে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

স্থানীয়দের দাবি, টেকসই উন্নয়নের জন্য এলজিইডি আওতাভুক্ত থেকে সরিয়ে সড়কটি রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল জানান, সড়কটি রোডস অ্যান্ড হাইওয়েতে সংযুক্ত করে প্রস্তুতকরণ ও টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। সড়কটির টেকসই উন্নয়ন করে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাগবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।