হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১০ শিশুর

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ১০ শিশুর। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশু এবং হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৬৬ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে এক হাজার ২৬১ জন। সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৪ জনে। আর এখন পর্যন্ত হামে মৃত্যু হয়েছে ৫০ শিশুর। মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৯৪ জনে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৪০ হাজার ৪৯১ জনের শরীরে। এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ২১৮ জন। এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩১৩ জনের। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৫ জন, বরিশালের ২ জন, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের একজন করে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্যে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে হামে মৃত্যু ও শনাক্ত সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে; ৫২৩ জন। এর মধ্যে ৬৪ জনের হাম শনাক্ত করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জনের মধ্যে ১২ জন, চট্টগ্রামে ১৭১ জনের মধ্যে ১০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩২ জনের মধ্যে ৯ জনের মধ্যে হামের রোগী পাওয়া গেছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৮২ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রংপুরে ১২ এবং সিলেট বিভাগে ৩৯ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ পাওয়া গেলেও নিশ্চিত হামের কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

সরকারি হিসেবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘সন্দেহজনক হামে’ সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে; ১১৬ জন। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ শিশুর। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৭০ জন, চট্টগামে ২১ জন, সিলেট ১৪ জন, খুলনাতে ১৩ জন এবং বরিশালে ১০ জন।