সিলেট নগরীতে নিজ বাসায় এক প্রবীণ দম্পতি ও তাদের কিশোরী গৃহকর্মীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতরা হলেন নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার মালিক আবদুস সাত্তার (৮৫), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)। তাহমিনার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার এলাকায়। তার বাবা আফতাম মিয়া একজন দিনমজুর। আটক বাবুল মিয়া রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে। তিনি রঙমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কসাইয়ের কাজও করতেন।
হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, কাজের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্থানীয় রঙমিস্ত্রি বাবুল মিয়া (৪০) একাই একে একে তিনজনকে ছুরি মেরে খুন করেছে। সে পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করে হত্যার কারণ জানিয়েছে।
এসএমপি কমিশনার বলেন, নিহত আবদুস সাত্তারের ভবনটি চারতলা। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দ্বিতীয়তলায় বসবাস করতেন। আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্ব পরিচয় ছিল। গত কোরবানির ঈদের পর তাহমিনা ওই বাসায় কাজে যোগ দেয়। ১৫-২০ দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল মিয়া একটি ছুরি সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তিনি শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন বাবুল। এরপর আবদুস সাত্তার এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনজনেরই মৃত্যু হয়। পরে বাবুল মিয়া বাসার দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যান। এরপর অদূরে জঙ্গল ভরা একটি প্লটে ছুরিটি ফেলে দেন। ছুরি উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সিসিটিভি এড়াতে পরিকল্পিতভাবে ওই সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ দম্পতির চার সন্তানের সবাই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। নিহত আবদুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি আবাসনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় বর্তমানে বাসাতেই অবস্থান করতেন।
বাসার চতুর্থতলার ভাড়াটিয়ারা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা সকালে চিৎকার, চেঁচামেচি শুনেছেন। তাদের ধারণা ছিল, হয়তো নিজেদের মধ্যে কোনো ঘটনা বা কেউ পড়ে গিয়ে আহত হয়ে কান্না করছে। এরপর দ্বিতীয়তলায় গিয়ে তারা দরজা বন্ধ এবং দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসতে দেখেন। তখন আশপাশের লোকজনকেও খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তিনজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।