কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি ও পাহাড় দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার কারণে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও সংরক্ষিত বন এলাকায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও বনের গাছ পোড়ানোর কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে।
জানা গেছে, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী, লক্ষ্যারচর এবং সুরাজপুর-মানিকপুর সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বনের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অন্তত ৩৬টি বড় ইটভাটা। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লোকালয় ও বনের গভীরে এসব কার্যক্রম চলছে। এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
পাহাড় কাটা এবং বনের ভেতর ইটভাটা স্থাপনের ফলে বন্যহাতির দীর্ঘদিনের বিচরণ পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ভাটায় কাঠ পোড়ানোর তীব্র ধোঁয়া ও উচ্চশব্দের কারণে বন্যপ্রাণীরা তাদের আবাসস্থল ছেড়ে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় কৃষিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সুরাজপুর-মানিকপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম জানান, আগে এই পাহাড়গুলো সবুজে ঘেরা থাকলেও এখন সকালে শুধু কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ভাটায় কাঠ পোড়ানোর গন্ধে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে এবং ধুলোবালির কারণে ফসলি জমির ফলনও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে চকরিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উত্তর হারবাং এলাকার এসবিএম ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং এএমবি-১, ২ ও ৩ নামক তিনটি ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানে গেলে অনেক সময় দখলদাররা প্রশাসনের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, বন বিভাগ এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বনের জমি রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অদূর ভবিষ্যতে চকরিয়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে এসব অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি।