ক্রিকেট বোর্ডে দুর্নীতি: ক্লিনারদের টাকা মারলে রক্ষা নেই- তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অভ্যন্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বোর্ড সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা তামিম ইকবাল। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের (ক্লিনার) বেতন নিয়ে তৃতীয় পক্ষের কারসাজি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গরিব মানুষের হক নষ্ট করা একটি 'বিশাল অপরাধ' এবং এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

তামিম জানান, বিসিবির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দৈনিক ৬৫০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র বা থার্ড পার্টি তাদের মাত্র ৩০০ টাকা দিচ্ছিল। বাকি ৩৫০ টাকা কোনো কাজ না করেই ওই পক্ষটি আত্মসাৎ করছিল। এ বিষয়ে তামিম বলেন, "যারা ক্লিনিং করে তারা ৩০০ পায়? আর যারা কাজ করে না তারা বাকি ৩৫০ টাকা নিয়ে নেয়? এটা হতে দেওয়া যায় না ভাই। মাঝখানে বসে একজন ব্যক্তি কোনো কাজ ছাড়াই এই টাকাটা নিয়ে নিচ্ছে।"

তামিম আরও যোগ করেন, "আমি এখানে এসে বিসিবি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুধু এনজয় করতে বসিনি। গত ১৭-১৮ বছর বাইরে থেকে যেসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, এখন সেগুলো ঠিক না করলে আমার আগের কথার কোনো মূল্য থাকে না।"

দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ

এই দুর্নীতি বন্ধে এরই মধ্যে বিসিবির সিইও এবং ফাইন্যান্স প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তামিম। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন:

  • প্রত্যেক ক্লিনারের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

  • বেতনের টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে হবে।

  • কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সরাসরি টাকা হাতে নিতে পারবে না।

পরিচ্ছন্নতা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "আমি বলেছি ৩০ জন মহিলাকে ডেকে আমার সামনে তাদের প্রাপ্য ৫০০ টাকা (খরচ বাদে) বুঝিয়ে দিতে হবে। যদি তারা এটা করতে পারে তবেই তাদের কন্ট্রাক্ট থাকবে, নাহলে তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।"

তদন্ত করতে গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তামিম। তিনি দেখেন, অনেক কর্মী কাজ করলেও বিসিবির তালিকায় তাদের নাম নেই। তিনি বলেন, "যাদের ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চলে, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও একটা বিশাল অপরাধ । আমি থাকা অবস্থায় এর এক পারসেন্টও ছাড় দেব না।"

বিসিবিতে স্বচ্ছতা ফেরাতে ইন্টারনাল মনিটরিং জোরদার করার কথা জানিয়ে তামিম বলেন, "মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হতে পারে, কিন্তু ইচ্ছা করে কোনো অপরাধ করা যাবে না। আমি চাই বিসিবিতে সবাই সমান সুযোগ পাক এবং পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করুক।"