বগুড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণের অভিযোগ 

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর সেই দৃশ্য কৌশলে মোবাইলে ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে নোমান মণ্ডল (২১) নামে এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শনিবার (২ মে) রাতে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত কলেজ ছাত্র নোমান মণ্ডল (২১) ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের আমতলা এলাকার সাইফুল মণ্ডলের ছেলে এবং বগুড়া শহরের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

ধুনট থানায় করা মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভূতবাড়ি গ্রামের এক পরিবহন শ্রমিকের মেয়ের (১৭) সঙ্গে গত এক বছর আগে নোমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্কুলছাত্রীর বাবা কর্মস্থলের কারণে টাঙ্গাইলে অবস্থান করেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীর মা টাঙ্গাইলে স্বামীর কাছে গেলে বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নেয় নোমান। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে নোমান বিয়ের প্রলোভনে ওই ছাত্রীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় সে কৌশলে নিজের স্মার্টফোনে এই দৃশ্য ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১২ মার্চ রাতে ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি কাঠ বাগানে ফের ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে নোমান তাকে প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে অবগত করলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শনিবার (২ মে) রাতে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রবিবার (৩ মে) সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হয়েছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নোমান মণ্ডল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।