চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  

শাটল ট্রেনের সমস্যা সমাধানে যে প্রস্তাব দিল চাকসু

শাটল ট্রেনের সমস্যা সমাধানে ডাবল লাইন স্থাপনসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছে চাকসু।  সোমবার (৪ মে) সকাল ১১টায় উপাচার্য দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্ব) এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম, পূর্ব) এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং চাকসুর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে শাটল ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী ট্রেনে যাতায়াত করেন। শাটল ট্রেনের যাতায়াত সহজ, আরামদায়ক এবং স্বস্তিদায়ক করার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই। এছাড়া শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক বিদ্যমান জটিলতা কাটিয়ে উঠতে দ্রত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চবি উপাচার্য শাটল ট্রেনে কোনো ধরণের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানান।

এসময় শাটল ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে একগুচ্ছ প্রস্তাব দেয় চাকসুর প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা এবং প্রয়োজনীয় মতামত পেশ করেন। বিশেষ করে শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো, ডাবল লাইন স্থাপন, দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগি ও ইঞ্জিন সংখ্যা বৃদ্ধি, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা কর্মী বৃদ্ধি, পাওয়ার-কার এর যথাযথ সুবিধা বৃদ্ধি, পাথর নিক্ষেপ ও শিডিউল বিপর্যয় রোধ এবং স্টেশনের উন্নয়নসহ যাবতীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় অতিশিগগির কোচ ও ইঞ্জিনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানান, কিছু বিষয় স্বল্প সময়ের মধ্যে করা যাবে, কিন্তু কিছু বিষয় সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, কতৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলেও বিদ্যমান বাস্তবতায় সবকিছুর তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন, চবি হিসাব নিয়ামক মো. আমিরুল ইসলাম, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভুঞা এবং সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওয়াইদুল সালমান।

প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্ব) এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. সুবক্তগীন, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, প্রধান সংকেত এবং টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ সামছ তুষার, চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) মো. জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের এসপি তহুরা জান্নাত।

প্রসঙ্গত সারা বিশ্বে একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে শাটল ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী ট্রেনে যাতায়াত করেন। তবে বগি সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও শিডিউল বিপর্যয়সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত চবি শিক্ষার্থীদের গর্বের শাটল ট্রেন।