নিউইয়র্ক টাইমস ৩টি রয়টার্সের ঝুঁলিতে ২টি

সাংবাদিকতার জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘পুলিৎজার পুরস্কার’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার বিভিন্ন বিভাগে এই পুরস্কার জিতেছে রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো। এ বছর পুলিৎজার ছিল ‘ট্রাম্পময়’! যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, পারিবারিক ব্যবসা এ সবই বিচারকদের নজর কেড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন করে এ বছর ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগেও এ বছরের পুলিৎজার পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছে রয়টার্স। শিশু ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট-প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসহ তিনটি বিভাগে পুলিৎজার জিতেছে নিউইয়র্ক টাইমস। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন ও ধনকুবের ইলন মাস্কের ব্যাপক কাটছাঁট নিয়ে প্রতিবেদন করে পাবলিক সার্ভিস বিভাগে পুলিৎজার জিতে নিয়েছে সংবাদমাধ্যটি। মতামতধর্মী লেখার জন্য পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের এম গেসেন। গাজার মানবিক সংকটের ছবি তুলে ‘ব্রেকিং নিউজ’ বিভাগে ফটোগ্রাফিতে পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রদায়ক সাহের আলগোরা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলা শুরু হয়। এই আগ্রাসনের মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে সাহেরের তোলা ছবিগুলোতে। এই ছবিগুলোকে ‘মর্মান্তিক’ ও ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দেন পুলিৎজার প্যানেলের প্রশাসক মার্জোরি মিলার। সাহেরের যে প্রতিবেদনটি পুরস্কার জিতেছে, তার শিরোনাম ‘ট্র্যাপড ইন গাজা : বিটুইন ফায়ার অ্যান্ড ফ্যামিন’ (গাজায় দুর্ভিক্ষ ও হামলার ফাঁদে আটকা পড়া)।

এ বছর বিভিন্ন বিভাগে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট, কানেটিকাট মিরর, শিকাগো ট্রিবিউন, এপিসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। ব্রেকিং নিউজ রিপোর্টিং বিভাগে এ বছর পুরস্কার জিতেছেন মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের কর্মীরা। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের তিন সাংবাদিক বিশ্লেষণধর্মী বিভাগে পুলিৎজার জিতেছেন। মায়ামি হেরাল্ডের সাংবাদিক জুলি কে ব্রাউনকে- জেফরি এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারি এবং বিচারব্যবস্থার ত্রুটিগুলো সামনে আনার জন্য বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে।

পুলিৎজার কমিটির প্রশাসক মার্জোরি মিলার পুরস্কার প্রদানের সময় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খোদ প্রেসিডেন্ট সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করছেন, তখন এই ধরনের সাহসী সাংবাদিকতা গণতন্ত্র রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করে।