যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ প্রাণ হারিয়েছে। তবুও শক্তিশালী সামরিক প্রতিপক্ষদের চোখে চোখ রেখে লড়াই চালিয়ে গেছে তেহরান। কেননা দেশটির শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের হারিয়েও নেতৃত্বশূন্য হয়নি ইরান। চলমান এই যুদ্ধকালীন সংকটের মধ্যে আরও একবার ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থায় রদবদল হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনসিসি) নতুন প্রধান হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজায়ির নাম ঘোষণা করেছে দেশটির কর্র্তৃপক্ষ। আর তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাকের জোলগদরকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার এক্সে এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র মেহেদি তাবাতাবায়েই বলেছেন, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিবের পদ থেকে মোহাম্মদ বাকের জোলগদরের পদত্যাগ ও তাকে নতুন দায়িত্বে নিয়োগের প্রেক্ষিতে এই পরিষদের প্রধান হিসেবে মোহসেন জেরায়ির নাম ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া জানিয়েছে, রেজায়ি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার এই মেয়াদকালের মধ্যে ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়টাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। আইআরজিসির পর রেজায়ি ইরানের বেশ কিছু উচ্চ রাজনৈতিক পদে আসীন ছিলেন। এরপর থেকে মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন ৭১ বছর বয়সী রেজায়ি।
গত জুলাই মাসে এক বক্তৃতায় রেজায়ি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বর্তমানে কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এই এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ কয়েক ডজন পরমাণু বোমার চেয়েও জরুরি। তার পূর্বসূরি জোলগদরও এক সময় আইআরজিসির কমান্ডার ছিলেন। গত জুন মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি নিহত হওয়ার পর অস্থায়ীভাবে এ পদে এসেছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন তিনি। রেজায়ি এবং জোলগদর উভয়েই কট্টরপন্থি এবং সর্বোচ্চ নেতার একান্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত।
আংশিক দর-কষাকষি চলছে- ট্রাম্প : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশ ইরানের সঙ্গে ‘কেবল আংশিক দর-কষাকষি’ করছে। কারণ, অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে তেহরান কতটা হিমশিম খাচ্ছে, তা এখন তারা পর্যবেক্ষণ করছে। গত রবিবার অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন এখন এ বিষয়ে ‘তেমন কোনো প্রচার’ ছাড়াই এগিয়ে নেওয়ার নীতিতে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কেবল অর্ধেক দর-কষাকষি করছি। আমরা শুধু ইরানকে দেখছি, তাদের বিশাল মূল্যস্ফীতি রয়েছে এবং তাদের হাতে কোনো টাকা নেই।’
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণেই ইরান এখন ‘খুবই খারাপ অবস্থায়’ পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, সরাসরি যুদ্ধ চলাকালে তেহরান হয়তো সাময়িকভাবে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু এখন যেহেতু হামলা বন্ধ আছে, তাই বাধ্য হয়েই তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আর এর কোনো সহজ সমাধানও তাদের হাতে নেই।
তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ওমানের সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত হলেও, তেহরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না। গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘেই এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি বিশেষ রুট তৈরিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো। তিনি বলেন, এই বিষয়টি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
