প্রশ্নফাঁস এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে ভারতের ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে। টানা ১৭ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার রাঁচির পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। আর এই বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির দাবিতে পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করলে কিছু শিক্ষার্থী প্রবল জলধারার মধ্যে নাচতে শুরু করেন। এ ঘটনা নিট আন্দোলনের দৃশ্যকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ট্রেন, বাস ও অন্য যানবাহনে করে দলে দলে রাজ্যের রাজধানীতে আসেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সরকারের উচিত আমাদের কথা শোনা এবং সাড়া দেওয়া’। এনডিটিভি জানিয়েছে, শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন প্রধান প্রধান সংযোগস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যারিকেড বসায় এবং রাঁচির বেশির ভাগ স্কুল বন্ধ রাখা হয়। বিক্ষোভ মিছিলে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতোও অংশ নিয়েছিলেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া মাহাতো সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করেছি। আমি চাই না এখানে দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক। এখানে যেন কোনো রক্ত না ঝরে, সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে হোক’।
বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠন এবং সরকার-নিযুক্ত একটি প্যানেলের মধ্যে একাধিক আলোচনার পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে সরকার ১৬ দিন আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রত্যাহার করতে শিক্ষার্থীদের রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে। গত রবিবার অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা অনিয়মের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকার বলছে যে, তারা আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ দাবিই মেনে নিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছেন, পরীক্ষায় যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তার জন্য তারা যে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন, তা মানতে নারাজ সরকার। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার এর মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।
হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজ্যটির বিরোধী দল বিজেপির নেতারা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং আদিত্য সাহুকে আটক করে পুলিশ। এই দুর্নীতির তদন্তে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শাখা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিক্ষোভের মুখে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য সিআইডি ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারপারসন এল খিয়াংতেকেও গ্রেপ্তার করেছে। তিনি গত ২২ জুলাই পদটি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। গত ২৯ জুলাই থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে।
