রিয়ালে অস্থিরতা: চুয়ামেনির ঘুষিতে মারাত্মক জখম ভালভের্দের মাথায় সেলাই

‎বার্সেলোনার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ 'এল ক্লাসিকো'র মাত্র তিন দিন আগে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দে এবং অরেলিয়েন চুয়ামেনির মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী হাতাহাতির খবর পাওয়া গেছে। মাথায় আঘাত পাওয়ায় ভালভার্দেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
‎স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে রিয়ালের ইতিহাসে "সবচেয়ে গুরুতর অভ্যন্তরীণ ঘটনা" হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যেভাবে ধাপে ধাপে ঘটল

‎​বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) সকালে ভালদেবেবাসে অনুশীলনে এসেই চুয়ামেনির সাথে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন ভালভার্দে। কোনো সম্ভাষণ ছাড়াই সরাসরি চুয়ামেনির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। ভালভার্দের দাবি ছিল, বুধবার ড্রেসিংরুমে হওয়া তর্কের কথা চুয়ামেনিই সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন। চুয়ামেনি বারবার তা অস্বীকার করলেও ভালভার্দে দমে যাননি।

‎​তর্কাতর্কি ড্রেসিংরুম থেকে ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনিং পিচে। অনুশীলনের পুরো সময়জুড়ে ভালভার্দে চুয়ামেনিকে লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি বিষিয়ে ওঠে যখন দুজন একে অপরকে লক্ষ্য করে ভয়ঙ্কর সব ট্যাকল শুরু করেন। অবাক করার বিষয় হলো, কোচ আলভারো আরবেলোয়া চোখের সামনে এমন ভয়াবহ শত্রুতা দেখেও কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।

‎​অনুশীলন শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরেও ভালভার্দে চুয়ামেনিকে অনবরত আক্রমণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে চুয়ামেনি শান্ত থাকতে না পেরে সজোরে ঘুষি চালিয়ে বসেন ভালভার্দের মাথায়। সেই ঘুষির আঘাতেই জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ভালভার্দে। পড়ে যাওয়ার সময় মেঝের সাথে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

‎​পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, ভালভার্দে একা উঠে দাঁড়ানোর অবস্থায় ছিলেন না। তাকে হুইলচেয়ারে করে ক্লাবের মেডিকেল ইউনিটে নেওয়া হয়। ক্ষতের গভীরতা দেখে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত মাদ্রিদের 'সানিটাস লা মোরালেজা' হাসপাতালে স্থানান্তর করেন, যেখানে তার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।

‎ক্লাব কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানার মুখে পড়বেন দুজনই।

‎ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার হোসে আনহেল সানচেজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলেছেন। তবে রিয়ালের ড্রেসিংরুমে এখন স্পষ্ট বিভাজন—একদল ভালভার্দের পক্ষে, অন্যদল চুয়ামেনির।

‎রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা যেন থামছেই না। এর আগে আন্তোনিও রুডিগার এবং আলভারো কারেরাসের মধ্যেও ঝামেলার খবর এসেছিল। যদিও কারেরাস পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রামে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে বলে দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, চোট কাটিয়ে ফেরার সময় কিলিয়ান এমবাপের সার্ডিনিয়া সফর নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।