যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে হেরে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের লেবার পার্টি। ওদিকে, ভালো ফল করে এগিয়ে আছে নাইজেল ফারাজের জনবাদী ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে।
নির্বাচনের এই ফলে মাত্র দুবছর আগে বিপুল ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসা কিয়ার স্টারমারের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
তবে কিয়ার স্টারমার ভোটে বাজে ফলাফলের দায় স্বীকার করলেও তিনি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। দল কয়েকশ কাউন্সিলর পদ হারানোর পরও স্টারমার বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করে দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেব না।’ স্টারমার বলেন, ফলাফল খুবই বাজে হয়েছে। এটিকে ভালো দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। সারা দেশে অনেক প্রতিনিধি হেরে গেছেন। তিনি এই পরাজয়ের দায় নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইংল্যান্ডের প্রায় ১৩৬টি স্থানীয় কাউন্সিলে, স্কটল্যান্ড ওয়েলশ এবং লন্ডনেরও কিছু অংশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। শুক্রবার নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করে। প্রাথমিক ফলেই দেখা যায়, লেবার পার্টি মধ্য ও উত্তর ইংল্যান্ডে তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিগুলোসহ লন্ডনেরও বেশ কিছু এলাকার ভোটে শত শত কাউন্সিল আসন খুইয়েছে।
অন্যদিকে, অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টি ইংল্যান্ডে জিতে নিয়েছে ৩০০’রও বেশি কাউন্সিল আসন। স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলশেও তারা ভালো ফল করছে। ভোটের এই চিত্র লেবার পার্টির জন্য শোচনীয়।
২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার সরকারের অধীনে এটিই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন। কিছু লেবার আইনপ্রণেতা বলছেন, স্কটল্যান্ডে দল খারাপ করলে, ওয়েলশে ক্ষমতা হারালে এবং ইংল্যান্ডে ২৫০০ কাউন্সিল আসনের বেশিরভাগই ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার বারবার পদত্যাগের চাপে পড়বেন কিংবা অন্তত তার বিদায় হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণের দাবির মুখে পড়বেন। দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব বদল নিয়ে চলা গুঞ্জনও তীব্র হবে। স্টারমারের সমর্থকরা অবশ্য তাকে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখন নয়। তিনি এখনো মোড় পরিবর্তন করতে পারবেন।
প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ‘এই নির্বাচনের ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। আমরা টিকে থাকার জন্যই এসেছি।’
তবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফলের চিত্র থেকে এই আভাসই পাওয়া যাচ্ছে যে, যুক্তরাজ্য ঐতিহ্যবাহী দ্বিদলীয় ব্যবস্থা থেকে সরে গিয়ে বহুদলীয় রাজনীতির দিকে এগুচ্ছে। নাইজেল ফারাজে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেছেন।
এক সময়কার দাপুটে লেবার এবং কনজারভেটিভ পার্টি দুই দলই এখন রিফর্ম ইউকের কাছে ভোটে মার খাচ্ছে। এবারের স্থানীয় নির্বাচনটি ছিল ২০২৯ সালে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের আগে লেবারের স্টারমার সরকারের জন্য এক বড় ধরনের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা।
এই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের টামসাইড কাউন্সিল এলাকায় প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম হেরে গেছে লেবার পার্টি। সেখানকার সব আসনই জিতে নিয়েছে রিফর্ম ইউকে পার্টি।