পারমাণবিক কৌশল বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো বড় যুদ্ধ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। নতুন কৌশলে দূরপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে স্বল্পপাল্লার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এই নতুন কৌশল সাজানোর কাজ করছেন। গত বুধবার নেব্রাস্কার একটি সামরিক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বাহিনী তদারককারী সংস্থা ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড (ইউএসএসট্র্যাটকম) সফরকালে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কৌশলে এটিকে অন্যতম বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকের শঙ্কা, কৌশলগত এ পরিবর্তন পারমাণবিক অস্ত্রের বাস্তবসম্মত ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে তুলবে।

কোলবির প্রস্তাবিত নতুন এই কৌশলের লক্ষ্য হলো, চীন বা রাশিয়ার হুমকি বা হামলার মুখে থাকা ওয়াশিংটনের মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এনবিসি নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক বিকল্প প্রয়োজন।’ ওই কর্মকর্তার দাবি, কোলবির প্রস্তাবিত কৌশলটি প্রেসিডেন্টের সামনে থেকে কোনো বিকল্পই সরিয়ে নিচ্ছে না। বরং এটি ‘বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প’ যোগ করে তার সামনে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করছে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। কোলবি দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত অস্ত্রের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।

কোলবির এই কৌশল বদলের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কট্টরপন্থি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনেকটা সাধারণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া দূরপাল্লার কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কমে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, সামরিক পরিকল্পনায় কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রকে বড় আকারে অন্তর্ভুক্ত করলে তা ব্যবহারের সীমা বা বাধা কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, এর ফলে প্রথাগত বা সাধারণ যুদ্ধগুলোতেও এই অস্ত্রগুলোর ব্যবহারকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হতে পারে। যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি ও সম্ভাব্যতা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা বর্ষণের পর থেকে বিশ্বে আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। তবে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতের প্রস্তুতি সরকারের ভেতরে নীরবে চলছেই। কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আবারও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে এই কৌশলের কোনো মিল নেই। তিনি স্পষ্টতই আরও বেশি বিকল্প ও সক্ষমতা চান।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক নিউ স্টার্ট পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের মাথায় পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। কিছু পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, চীন যেভাবে তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার গড়ে তুলছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল অব্যাহত থাকলে ত্রিদেশীয় অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। এতে বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০২১ সালে বর্ধিত হওয়া এই চুক্তির আওতায় দুই দেশেরই মোতায়েনকৃত পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলেও, রাশিয়া জানিয়েছিল ওয়াশিংটন আগ বাড়িয়ে পারমাণবিক সক্ষমতা না বাড়ালে মস্কোও উত্তেজনা বাড়াবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত