সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ নিয়ে আলোচনার একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ‘আমব্রেলা প্রতিরোধ’ জোট নামক একটি গোষ্ঠী বিদ্রোহী ও সরকার পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করছে। গত বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেখানে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে লড়াইয়ের পর যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর পুনরায় শক্তি ফিরে পাওয়া এবং আঞ্চলিক পর্যায় থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় গঠিত স্টিয়ারিং কাউন্সিল (এসসিইএফ) এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জোট কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং ছায়া সরকারকে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘বিরল’ সুযোগ।
গত মাসে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্টিয়ারিং কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর আলোচক কমিটির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন ওই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তবে জান্তা প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হøাইং এখনো এসসিইএফ-কে আলোচনার অংশীদার হিসেবে মেনে নেননি। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো মরগান মাইকেলস বলছেন, মনে হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে এসসিইএফ জোটের সদস্যরা সরে এসেছে। তারপরও এ দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ হতে এখনো অনেক পথ বাকি।
এসসিইএফ-এর মুখপাত্র স নিমরোদ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য সামরিক বাহিনীকে রাজনীতির বাইরে পাঠিয়ে বেসামরিক সরকারের আধিপত্য নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের চূড়ান্ত দাবি। তবে আপাতত আমরা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত, রাজনৈতিক আলোচনার জন্যও প্রস্তুত।’ তবে অর্থবহ সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে একটি আহ্বান জানিয়েছে এসসিইএফ। সেটি হলো বেসামরিকদের ওপর হামলা বন্ধ এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া।
এদিকে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের থাইল্যান্ড সফর এই পরিস্থিতির আরেকটি দিক তুলে ধরছে। কারণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটে (আসিয়ান) পুনরায় মিয়ানমারের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যাংকক ধাপে ধাপে চেষ্টা করছে। ফলে মিনের থাইল্যান্ড সফর যুদ্ধবিরতির বিস্তৃত প্রচেষ্টাকে সামনে আনছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত নির্বাচনের পর মিয়ানমারের নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং জান্তা প্রধান থেকে বেসামরিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকার গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আমরা শান্তি কামনা করি।
