নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম, আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে এ মতবিনিময়ের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের নতুন সংগ্রামে নামতে হবে।’
রুদ্ধদ্বার সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটি হলো আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে, আমরা সুশাসন দেব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। নারী-পুরুষ-শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম, তখন বলেছিলাম আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক, যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মতপ্রকাশ করব।’
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময়। বেলা পৌনে ১১টায় শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলা রুদ্ধদ্বার এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় বিএনপি ছাড়াও দলের তিন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের ডাকা হয়। তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীদের কাছে নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ (গতকাল) প্রথম মূল দল বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এখানে মূলত সরকার তিন মাসে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে। যাতে নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। নেতাকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে।
নাছির বলেন, সভায় মন্ত্রীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তেমনি জেলার নেতারা তাদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন। আমরা আশা করছি, এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেমন সরকারের জবাবদিহি বাড়বে এবং একই সঙ্গে সরকারের যেসব ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, সেগুলো আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছি।
জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে সরকারের ১০ মন্ত্রী নেতাকর্মীদের সামনে প্রেজেন্টেশন দেন বিগত ৮০ দিনে সরকার কী ধরনের কার্যকলাপ করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে আমাদের যেমন কনফিউশন আছে, যেমন জুলাই সনদ, তারপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তো অনেক কিছু করছে এ কাজটা কেন হচ্ছে? তারপর নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে এ জিনিসগুলো এখানে ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছেন মন্ত্রীরা।
সভার একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, প্রত্যেক মন্ত্রী ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রেজেন্টেশন বা বক্তৃতা দেন। তাদের কার্যকলাপ তুলে ধরেছেন। এরপর ৭-৮টা করে প্রশ্ন নিচ্ছেন উপস্থিত নেতাকর্মীদের থেকে। সেগুলোর আবার তারা উত্তর দিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ মিনিটের একটা ইন্ট্রোডাকশন দিয়েছেন সভার রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে। সেখানে তিনি বলেছেন, ১০ মন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৭টা, অঙ্গসংগঠনগুলোর নতুন কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
সূত্র জানায়, সভায় হামের বিষয়টি তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পুরো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেন এবং বিগত সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়ছে সেটিরও ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে এটি কীভাবে পুনরুদ্ধার করছেন এগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা করেন।
বিগত সময়ের মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যেগুলো ট্রায়ালে চলে গেছে, ওগুলো আদালতে সমাধান হবে।