হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ আদায় করা আবশ্যক। তবে অনেক সময় এমন হয়, কারও ওপর হজ ফরজ হওয়ার পরও অসুস্থতা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি নিজে হজে যেতে সক্ষম হন না। সেক্ষেত্রে তার জন্য বদলি হজের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু কার জন্য বদলি হজ বৈধ, কখন তা করতে হবে এবং এর শর্ত কী, এসব বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং হজ আদায়ের শারীরিক সক্ষমতাও আছে তার জন্য নিজে হজ করা জরুরি। এক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করানো জায়েজ নয়। বদলি করালে এর দ্বারা তার ফরজ হজ আদায় হবে না। (বাদায়েউস সানাইয়ে ২/৪৫৪)
যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং হজ আদায়ের সক্ষমতাও ছিল, কিন্তু শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করেনি। অতঃপর হজ আদায়ের সক্ষমতা হারিয়ে মাজুর হয়ে পড়েছে, এমন ব্যক্তির ওপর ফরজ হলো নিজের পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো অথবা মৃত্যুর আগে তার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, বিদায় হজে খাছআম গোত্রের একজন নারী হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার বাবার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি এত বৃদ্ধ যে, বাহনের ওপর স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। (তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারবে)। (সহিহ বুখারি)
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক