চীনের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ  

নীলফামারীর জমি পরিদর্শন করলেন চীনা প্রতিনিধি

উত্তরবঙ্গের চিকিৎসাসেবার মান আমূল বদলে দিতে নীলফামারীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’। ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু করেছে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধি দল।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিনিধি দলের প্রধান ডং লি-এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কারিগরি দল দারোয়ানীতে পৌঁছান। তারা প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ২৫ একর জায়গার কারিগরি ও প্রাথমিক সমীক্ষা পরিচালনা করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই বিশাল প্রকল্পে চীন সরকার ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করছে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আসা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফাতেমা তুজ জোহরা সাংবাদিকদের জানান, এখানে ২৫ একর জমির ওপর একটি আধুনিক ১০তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি, আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলোসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। ১০০০ শয্যার এই হাসপাতালের মধ্যে ৫০০টি সাধারণ বেড এবং বাকি ৫০০টি স¤পূর্ণ বিশেষায়িত সেবার জন্য বরাদ্দ থাকবে।

তিনি আরও জানান, এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি ও নিউরোলজির মতো জটিল ও বিশেষায়িত বিভাগে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধার পাশাপাশি উন্নত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, ১ হাজার শয্যার ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। যার বড় অংশ মূলত চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা হবে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রতিনিধি দলের সফরকালে আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে হবে না, যা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিত্র বদলে দেবে।

বিশেষ করে এ অঞ্চলের সঙ্গে আকাশ পথ, রেলপথ, সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থাকায় এই স্থানটি একটি আধুনিক ও আঞ্চলিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।