খুলনার রূপসা ঘাটের পশ্চিমপাড়ে ফেলে রাখা পন্টুন অপসারণে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেই। অন্তত ছয় মাস ধরে ভাঙা পন্টুনটি পশ্চিম পাড়ে ফেলে রাখায় একদিকে নদী যেমন হারাচ্ছে তার গতিধারা, অন্যদিকে হারাচ্ছে নাব্যতা। এদিকে নদীর স্রোতধারা বহমান রাখতে পন্টুনটি অপসারণের জোর দাবি সচেতন মহলের।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, রূপসা নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি পরিত্যক্ত পন্টুন পার্কিং করা ছিল। ওই পন্টুনটি ট্রলারের যাত্রী ওঠানামা কাজেও ব্যবহার করা হতো। কিন্তু রাষ্ট্রীয় এ সম্পদ অন্তÍত পাঁচ মাস আগে সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রূপসা ঘাটের পশ্চিম পাড়ে রাখা হয়। বিশাল এ পন্টুনটি দিনের পর দিন পলি জমে ভরাট হচ্ছে। পন্টুনটি এক দিকে যেমন ভরাট হয়ে আসছে অপরদিকে পশ্চিম পাড়ে নদীর স্রোতধারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
রূপসা ঘাটের পশ্চিম পাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ রূপসার ঘাটের পশ্চিমপাড়ে পন্টুনটি পার্কিং করে রেখেছে। তাদের ভাষ্য, পন্টুন একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অথচ প্রকাশ্যে দিবালোকেও পন্টুনের বিভিন্ন অংশ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের কেউ নেই বললে চলে। পন্টুনের বিভিন্ন অংশ কেটে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে পকেট ভারী করছেন একটি চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে।
পশ্চিম রূপসা ঘাট এলাকা দিয়ে যাওয়া ফকিরহাটের খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পশ্চিম পাড়ের পন্টুনটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। পন্টুনের ভেতরে পলি জমছে। পন্টুনের কারণে নদী নাব্যতা হারাচ্ছে।’
বটিয়াঘাটা উপজেলার বাইনতলা এলাকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রূপসা ঘাটের পশ্চিম পাড়ের পন্টুনের কারণে ওই এলাকায় নদী নাব্যতা হারাচ্ছে। তাই পন্টুনটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে তিনি দায়িত্বশীল কর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রূপসা উপজেলার চর-রূপসা গ্রামের নাসির উদ্দিন বলেন, পন্টুনটি পশ্চিম পাড়ে রেখে দেওয়ায় স্রোত নেই বললে চলে। এতে নদী হারাচ্ছে গতিপথ। তাই নদী বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে জানতে সড়ক ও জনপদ (সওজ) খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।