চবিতে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ ও জিএজিইএর যৌথ উদ্যোগে ‘এডোলেসেন্ট অ্যান্ড ইয়ং পিপলস ওয়েলবিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে কনফারেন্সের উদ্বোধনী সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।  বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসাকি ওয়াতাবে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলা উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, আজকের টপিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মের সমস্যাসমূহ উল্লেখ করে এগুলোর সমাধান অতি জরুরি। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম বেশিরভাগ দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগে। এর মূল কারণ আর্থিক অনটন, চাকরি না থাকা এবং সঠিক দিক নির্দেশনার অভাব। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও এ সমস্যা প্রকট। এসব নিরসনে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসেও অনেকে দুশ্চিন্তায় ভোগে। এসব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

চবি উপাচার্য বলেন, কনফারেন্সে তরুণদের দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের গবেষণামূলক কাজে আরও বেশি তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।আমাদের দেশে তরুণ প্রজন্মের সমস্যা সমাধানে উদ্যােগ গ্রহণ অতীব জরুরি। কারণ তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। আশা করি, এ কনফারেন্সের অনেক ধারণা উঠে আসবে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজে আসবে।

উপাচার্য কনফারেন্সে আগত বিদেশি প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথিসহ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং কনফারেন্সের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা তরুণ প্রজন্মের উপকারে আসবে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আজকের টপিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। কিশোর-কিশোরী, তরুণ প্রজন্ম একটা জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সারাহ বেয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ তরুণ ও যুবক। তবে তাদের সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি অধিকাংশ সময় অবহেলিত থাকে। অধিকাংশ তরুণ তরুণী জীবনের একটা বড় সময় ধরে মানসিক চাপে থাকে। তাছাড়া লিঙ্গীয় বিষয়াবলি এখানে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ তরুণীদের সার্বিক বিষয়াদি একাডেমিক পরিমণ্ডলে অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে বলে আমি মনে করি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক বিবেচনায় আমাদের দেশের তরুণরা অনেকাংশেই পিছিয়ে আছে। তাদের যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের অভাব দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন সে দেশের তরুণ তরুণীদের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তরুণ প্রজন্মকে বাদ দিয়ে দেশের টেকসই জাতির উন্নয়ন সম্ভব না।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জিএজিইএর পরিচালক ড. নিকোলা জোন্স। তিনি বলেন, আমাদের এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা জেন্ডার ইস্যু এবং তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করে থাকি। কেননা তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই একটি সুন্দর ও গতিশীল বিশ্ব বিনির্বাণ করা সম্ভব। তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি দেশ তরুণদের যথাযোগ্য নেতৃত্ব এবং সৃজনশীল ভাবনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।’

অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. খাদিজা মিতু। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজকের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিশোর-কিশোরীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, পুষ্টি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট গাইডলাইন পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামে পেপার ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন করেছেন। আজকের এই কনফারেন্সে যেসব গবেষণা বন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া এই একাডেমিক কনফারেন্সে শিক্ষার্থীরা বেশি সুযোগ পেয়েছে। কনফারেন্স নিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতি নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, একটি দেশের তরুণ-তরুণী ও যুবকরা হল সেই দেশের অন্যতম সম্পদ। কারণ তাদের হাত ধরেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়। আমাদের দেশের কিশোর কিশোরীদের মধ্যে যেন সেই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি তারা যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানে এগিয়ে যেতে পারে সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলের কাজ করা উচিত।’

কনফারেন্সে অন্য বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিশোর-কিশোরীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, পুষ্টি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বিষয়ে আলোকপাত করেন। ১১-১২ মে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মোট একাধিক সেশনে তরুণদের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। সম্মেলনটি ইউকে এইড এবং ওডিআই গ্লোবাল এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে দেশি-বিদেশি গবেষক, চবির ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিশেষজ্ঞ, চবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।