দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বর্তমান আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে নাকি নতুন নেতৃত্ব আসতে যাচ্ছে এ নিয়ে চলছে জোর বিশ্লেষণ। তবে আলোচনা যাই থাক না কেন কার লবিং কত বড় তার উপর নির্ভর করছে শেকৃবি ছাত্রদলের ভাগ্য।
৫ আগস্ট পরবর্তী কয়েক দফা নেতা-কর্মীদের চেষ্টা ও বিএনপি’র নেতাদের হস্তক্ষেপেও কমিটি আনতে পারেনি ইউনিউটের পদ প্রত্যাশীরা। তবে সম্প্রতি বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ের এক সিনিয়র নেতার ফোনে পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। নতুন করে এই তৎপরতায় ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মাঝে।
জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইউনিটটি নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষছেন, যেকোন সময় আসতে পারে সিদ্ধান্ত। বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে নাকি নতুন নেতৃত্ব আসবে তা নির্ভর করছে উচ্চ লবিংয়ের উপর। তবে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে পরিবর্তন আসলে দ্রুত শেকৃবি ছাত্রদল নতুন মুখ পেতে যাচ্ছে এটা অনেকটাই পরিষ্কার।
সবশেষ ২০২২ সালের ১০ মে আহমেদুল কবীর তাপসকে সভাপতি ও বি এম আলমগীর কবীরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা থাকলেও বিগত ৪ বছরেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কয়েক দফা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার তোড়জোড় দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেটি করতে ব্যর্থ হয় দায়িত্বশীলরা।
শেকৃবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান একাধিক দায়িত্বশীল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই ইউনিট অন্য ইউনিটের চেয়ে অনেক আলাদা, এটি আঞ্চলিকতায় নিমজ্জিত একটি ক্যাম্পাস। দলের পাশাপাশি এখানে কে কার এলাকার এটা অনেক বড় ফ্যাক্ট।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক এলাকা থেকে বাছাই করা নেতৃত্বের জন্য এলাকার সবাই এক হয় কাজ করে এবং সেভাবে লবিং চলে। আবার দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিত থাকলেও এলাকা আর নেতার সুপারিশে এখন তারা বড় ত্যাগী ছাত্রদল।
বর্তমান পরিস্থিতে সম্পর্কে শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, কমিটি চেঞ্জের বিষয়টি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত তবে আমরা চাই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক। দীর্ঘদিন যারা কাজ করেছে তাদের মূল্যায়ন হোক। আমরা অনেক আগেই ১০০’র অধিক সদস্যের নাম কেন্দ্রে জমা দিয়েছি।
তবে পদ প্রত্যাশী একাধিক ছাত্রদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, যখনই নতুন কমিটি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয় তখনই তারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নাটক তৈরি করে। সেই ২৪ পরবর্তী সময় বেশ কয়েকবার এটা হয়েছে, আমরা আর ধোঁকা খেতে চাই না। এবার আমরা অনেক আশাবাদী।
সম্প্রতি ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতির অস্থিরতার জন্য সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করার কথা জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শেকৃবির বিষয়ে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিব। পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাকি নতুন নেতৃত্ব দুটোই আলোচনায় রয়েছে। তবে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের দাবী, কোন বিশেষ লবিং বা প্রভাব খাটিয়ে নয়, বরং যারা বিগত দিনের আন্দোলন- সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রহনযগ্যতা আছে, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হোক। ত্যাগী ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করলে ক্যাম্পাসের ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হবে।