গত সোমবার (৩ আগস্ট) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল ও শাখা ছাত্রশিবিরের মধ্যে রাতভর কয়েক দফার সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোটা ক্যাম্পাসে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সারাদিনই ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। এরপরও বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পূর্বনির্ধারিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই বেরোবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। জরুরি ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা দাপ্তরিক কাজ বাদে তাই তেমন কোনো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি মঙ্গলবার।
এদিকে, বিকেলে ছাত্র সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তা সত্ত্বেও মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আর মহানগর শিবির নগরীর লালবাগ থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত পূর্বঘোষিত পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করে।
তবে ক্যাম্পাসের থমথমে পরিস্থিতি সত্ত্বেও বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেরোবিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিগুলো পালন করা হবে বলে জানিয়েছে বেরোবি কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের ভাষ্য, বুধবার থেকে ১৪৪ ধারার বাধ্যবাধকতা আর বলবৎ থাকবে না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, বেরোবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা সঠিক সময়েই আয়োজিত হবে। তবে বেশি রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান যেন না হয়, সে দিকটি বিবেচনা করছে প্রশাসন। ১৪৪ ধারা আমরা শুধু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্তই আবেদন করেছিলাম।
অপর দিকে, ৩ আগস্টের ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন পরিবহন পুলের পরিচালক মো. মাসুদ রানা এবং সদস্যসচিবের দায়িত্বে আছেন সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। বাকি সদস্যরা হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন আল রশীদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. তানজিউল ইসলাম জীবন এবং বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট মো. আমির শরীফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়ে বলেন, আমরা সেদিনের সংঘর্ষের ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ করছি। আমাদের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা প্রতিবেদন জমা দিলে সব পরিষ্কার হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রদর্শনীর ‘জুডিশিয়ল কিলিং’ শীর্ষক একটি চিত্রকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদল ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহতসহ অন্তত ২০ জন চিকিৎসা নেন।
