চালনা লেকে দূষণের থাবা

খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের মিঠাপানির লেকটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় একদিকে মিঠাপানির সংকট যেমন বাড়ছে, তেমনি দূষিত পানির দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লেকটির দুই পাড়ে রয়েছে উপজেলা সদর ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। পুরো লেক কচুরিপানায় ঠাসা। অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনার জঞ্জাল। এর অধিকাংশ এলাকার পাড় ভেঙে গেছে। শ্রী হারিয়েছে লেকটি। উভয় পাড়ের বাসিন্দারা বসতবাড়ির নালার সংযোগ করায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এটি।

দাকোপের কেন্দ্রীয় চালনার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি অতীন ম-ল বলেন, মিঠাপানির সংকটে লেকটির সংস্কার দরকার। এই লেকের পশ্চিম পাশে একসময় গরুর হাট বসত। সেই জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে। এর চারপাশে বসার বেঞ্চ তৈরি করে দৃষ্টিনন্দন করা হলে এটি পৌরসভা তথা উপজেলাবাসীর জন্য একটি আদর্শ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক শুভ্র শচীন বলেন, সমুদ্র-উপকূলবর্তী তিনটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নিয়ে গঠিত উপজেলাটি ঘিরে রেখেছে ঢাকী, পশুর, শিবসা ও কাজীবাছা নদী। ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে উপজেলাটির তিনটি ইউনিয়নই সুন্দরবনের সীমানায় অবস্থিত। প্রকৃতিগতভাবে এখানে পানি আছে ঠিকই, কিন্তু তা নিরাপদ নয়। জলবায়ু বিপর্যয়ে পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে ক্রমাগত। বছরজুড়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির কষ্ট তো আছেই। পাশাপাশি রয়েছে গোসল ও গৃহস্থালির কাজের পানির সংকটও।

সাংবাদিক শুভ্র শচীন আরও বলেন, মিঠাপানির জন্য মূলত পুকুর ও টিউবওয়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে পৌরসভার ৫, ৬ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ গোসল, রান্না, কাপড় ধোয়াসহ গৃহস্থালির সব কাজে চালনা লেকের পানিই ব্যবহার করে আসছিলেন। তবে প্রায় দুই যুগ ধরে লেকটি সংস্কার না করায় তারা এ পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।

চালনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌতম সাহা বলেন, লেকটিতে কচুরিপানা পচে পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

ইউএনও ও চালনা পৌরসভার প্রশাসক বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, লেকটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি। ইতিপূর্বে এর সংস্কারে পৌরসভা থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় সেটা সম্ভব হয়নি। তাই সংস্কারের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার বলেন, ‘চিঠিটি আমরা পেয়েছি। আপাতত কচুরিপানা অপসারণের ব্যবস্থার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, দাকোপ উপজেলা সদর ও চালনা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে এরই মধ্যে চালনা লেকের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। কচুরিপানা অপসারণের পর এর পানি ব্যবহারযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।