শ্রীপুরে বাকিতে পণ্য না দেওয়ায় হামলা, আহত ৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি থাই অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে এক ক্রেতা তার লোকজন নিয়ে হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি গুলিও করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে ওই ক্রেতা বাকিতে পন্য কিনতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে ওই দোকানে হামলা ও ভাঙচুরও চালিয়েছে। এ সময় হামলা মারধরে শিকার হয়ে পাঁচ জন আহত হয়।হামলায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এ সময় কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের হাজী কাছম আলী ফকির সুপার মার্কেটে নিউ জামালপুর গ্লাস অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে এ হামলারর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পলিশ ঘনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারিার পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর এলাকার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকা অতিরিক্ত পুলিশ দেখা গেছে। মারধরের শিকার হয়ে আহতরা হলেন মার্কেটের মালিক কামাল ফকির, তার ভাগিনা সিয়াম ফকির, নিউ জামালপুর গ্লাস অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়াম দোকানের ম্যানেজার শাহীন আলম, দুই কর্মচারী শান্ত হোসেন ও শ্যামল মিয়া।

এ দিকে অভিযুক্তরা হলেন, রানা ভন্ডারি ও তার ছোট ভাই মামুন ভান্ডারি। তারা পাশের কেওয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ভান্ডারি ওরফে নুরু কসাইয়ের ছেলে।তাদের নামে এলাকায় নানা সময় অস্ত্রবাজির করার অভিযোগ আছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান রাতে (সাড়ে ৮ টার দিকে) বেশ কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে রানা ভান্ডারি ও তার ছোট ভাই মামুন ভান্ডারি মুলাইদ এলাকার নিউ জামালপুর গ্লাস অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে আসেন। এ সময় তারা দোকানের কর্মচারিদের সাথে পণ্য বাকিতে কেনা নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একসময় বাকিতে পন্য না দেওয়ার জের রানা ভান্ডারি ও মামুন ভান্ডারির নেতৃত্বে দোকানের কর্মচারি ও ম্যানেরজারের ওপর হামলা চালায় তাদের লোকজন। পরে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একসময় রানা ভান্ডারির লোকজন দোকান লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। এমন অবস্থা দেখে মার্কেট মালিক ও তার ভাগিনা এগিয়ে এলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মার্কেট মালিকসহ ৫ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাল উদ্দীন বলেন রানা ভান্ডারি ও তার লোকজন ওই দোকানে হামলা চালায়। এ সময় তাদের মধ্য থেকে কেউ দোকানের মালিক ফয়সালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তবে এ সময় কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় দোকান মালিক। পরে লোকজন জড়ো হলে রানা ভান্ডারি ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রানা ভান্ডারি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়ায়। তারা আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন অতি জরুরি।

দোকান মালিক ফয়সাল আহমেদ জানান, রানা ভান্ডারি বিভিন্ন সময় তার দোকান থেকে থাই পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়ারি মালামাল কিনেন। প্রায় সময় পণ্য কিনে কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দিবে বলে মালামাল নেন। এখনো তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পাওনা আছে। তিনি আরও বলেন গত  ৯ মে শনিবার রানা ভান্ডারি ৭২ হাজার টাকার থাইমালামাল তার দোকান থেকে কিনেন । এ সময় তিনি ৩০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করেন। আজ (১২ মে) মঙ্গলবার বাকি ৪২ হাজার টাকা পরিশোধ করে আরও মালামাল নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু  বিকেলে আরও থাই পন্য কিনতে আসলে গত শনিবারের পাওনা ৪২ হাজার টাকা চাওয়া হলে রানা ভান্ডারি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এ সময় দোকানের কর্মচারী শ্যামলের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ালে সে শ্যামলকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীংমাসা করে দেন রানা ভান্ডারিও চলে যান।

ফয়সাল আরও বলেন আজ (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে রানা ভান্ডারি ও তার ভাই মামুনের নেতৃত্বে অন্তত ২০/২৫ জন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে মার্কেট মালিক কামাল ফকির ও তার ভাগিনা সিয়াম, দোকানের ম্যানেজার শাহীন আলম ও শান্ত মিয়া আহত হয়। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক কোনো জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। পুলিশ এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আশা করি আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে জানান তিনি।