‘পিস্তল’ দেখিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো ইমন গ্রেপ্তার 

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
কোমরে ‘পিস্তল’ গুঁজে ঘোরাফেরা, সুযোগ পেলেই সেটি প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি—এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে আসছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক যুবক। সম্প্রতি একটি রেস্টুরেন্টে বসে পিস্তল হাতে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশ করলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 
ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের দায়পাড়া এলাকায়। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন মিয়া (২৪) ওই এলাকার মো. রিপন মিয়া ও শামীমা বেগম দম্পতির ছেলে।
 
পুলিশ জানায়, টিকটকে অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি একই পিস্তল দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং যৌতুক দাবি করার অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা আক্তার শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
 
মামলার পর সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল ইমনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ভিডিওতে প্রদর্শিত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, সেটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং একটি পিস্তলসদৃশ লাইটার (খেলনা)। 
পুলিশের দাবি, ইমন এই পিস্তলসদৃশ লাইটার ব্যবহার করে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করতেন এবং স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে যৌতুক আদায়ের চেষ্টা করতেন। গতকাল সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
স্থানীয়রা জানান, ইমন সব সময় এমনভাবে চলাফেরা করতেন যাতে কোমরে থাকা পিস্তলটি অন্যদের চোখে পড়ে। এতে অনেকেই তাকে সত্যিকারের অস্ত্রধারী মনে করে ভয় পেতেন। পরে পুলিশ জানায়, সেটি আসলে খেলনা লাইটার। এরপরও অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে এটি সত্যিই খেলনা ছিল কি না। তবে তারা পুলিশের বক্তব্যে আস্থা রাখতে চান। একই সঙ্গে তাদের আশঙ্কা, জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যেন আরও বেপরোয়া হয়ে না ওঠেন। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
 
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, রেস্টুরেন্টে বসে অস্ত্রসদৃশ লাইটার প্রদর্শনের একটি ভিডিও টিকটকে প্রচারের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা বস্তুটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়, একটি পিস্তলসদৃশ লাইটার। তবে এটি ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত