এক জায়গায় ডাকাতির পর চলে যেত অন্য জায়গায়। সেখানে আরেক নামে পরিচিত হতো তারা। এরপর করত ডাকাতি। চক্রের এমন পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এমনটি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটি ঈদকে সামনে রেখে ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল। তবে এর আগেই ডিবির জালে আটকা পড়ে তারা।
গ্রেপ্তাররা হলো- লিটন জব্বার, ইসমাইল হোসেন মামুন, বাবুল বাবু, আইয়ুব ভূইয়া ও রোমান। যাত্রাবাড়ীর শহিদ ফারুক সড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, সাত রাউন্ড গুলি, দুই কেজি ২০০ গ্রাম বিস্ফোরক, একটি চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ও নগদ এজেন্টদের টাকা ও পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। তবে সেগুলো বাস্তবায়ন করার আগেই তাদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতি কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে যশোর জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র, গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে হাতবোমা তৈরি করত। পরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী দলের কাছে এসব বিক্রি করত এবং অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ডাকাতি করে আসছিল। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আর অন্য একজন নারায়ণগঞ্জের। তারা একেক জায়গায় এক এক নামে নিজেদের পরিচয় দিত। এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে দেখি, তাদের ছবি মিলে যাচ্ছে, কিন্তু তারা এক এক জায়গায়, এক এক নাম ব্যবহার করে ভিন্ন পরিচয় দেয়। যাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর সঠিক তথ্য পুলিশের কাছে না থাকে। আমরা তাদের ছবি দেখে এবার শনাক্ত করেছি এবং এ পর্যন্ত দেখলাম যে তাদের পাঁচ জনের নামে ১৪টির বেশি মামলা রয়েছে।
মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযানের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার ভেতর ডিএমপির তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজের সংখ্যা ১৫৪ জন এবং ১৩২ জন চাঁদাবাজদের সহযোগী। এছাড়া ছিনতাইকারী ২৬১ জন এবং মাদক কারবারি ১৮ জন। সড়ক-মহাসড়কে ডাকাতি রোধে আমাদের প্যাট্রল এবং মোবাইল পার্টির টহল জোরালো করা হয়েছে।
নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিদের ‘ছকের ভেতর’ আনা হয়েছে দাবি করে ডিবি প্রধান বলেন, টিটন হত্যা মামলা তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের অবস্থান প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। আমরা চেষ্টা করছি। খুনিদের মোটরসাইকেল রায়েরবাজার পর্যন্ত গেছে, এটা শনাক্ত করা গেছে। রায়েরবাজার পর্যন্ত যেহেতু শনাক্ত করা গেছে, আমরা মোটামুটি একটা ছকের ভেতর নিয়ে আসছি। আমরা একটি নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছি।