প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানালেন

হামের টিকা নিয়ে গাফিলতি তদন্তে দ্রুতই কমিটি হচ্ছে

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে ৩ এবং উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ জনের। উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ১০৫ জন। এ নিয়ে নতুন করে হামজনিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯২ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৩৫৬ এবং হামে ৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, হামের টিকা নিয়ে গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে দ্রুত কমিটি করা হচ্ছে। সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের কর্মকা-ের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে, আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা টিকা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের সমন্বয় করে কমিটি গঠন করা হবে। কারা কারা সদস্য থাকবেন জনগণকে সেটা জানানো হবে। আশা করি কাজটি খুব দ্রুতই শুরু হবে। তদন্ত কমিটি দেখবে কী কারণে এটা ল্যাক করল এবং টিকা যে দেওয়া হলো না কবে থেকে এই অবহেলা শুরু হলো। সেটা আওয়ামী লীগের সময়ে যদি থাকে, ইন্টেরিমের সময়ের (অন্তর্বর্তী সরকার) কিছু তথ্য আমাদের সামনে আছে। আমরা ইউনিসেফের প্রতিনিধিকে পাবলিকলি ইন্টারভিউ দিয়ে বলতে শুনেছি, সরকারকে টিকা নিয়ে সতর্ক করেছিল যে, সরকার যেভাবে প্রকিউর (টিকা ক্রয়) করতে চাইছে, এতে সংকট তৈরি হতে পারে। এগুলো তাদের জায়গায়। কিন্তু তার (ইউনিসেফ প্রতিনিধি) কথাই যে শতভাগ সঠিক তাও নয়, তদন্ত কমিটি সবই যাচাই-বাছাই করে দেখবে।

২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনের শরীরে। এই সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন।