দুধের শিশুসহ মা কারাগারে বাইরে রেখে গেলেন ২ সন্তান

লক্ষ্মীপুরে একটি মারামারি মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী নামে এক নারীসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে  আদালত। শিল্পীর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে তার দুধের শিশুকেও। দেড় বছরের শিশুকে নিজের সঙ্গে রাখার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আর কারাফটকের বাইরে ছিল শিল্পীর আরও দুই স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ে। মাকে কারাগারে আনার খবর শুনে বিদ্যালয় থেকে অভিভাবকরা দুই ভাইবোনকে নিয়ে আসেন কারাফটকে। তাদের স্কুল ড্রেস পরে কারাফটকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এখন মাকে ছাড়াই তাদের থাকতে হচ্ছে। এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমসহ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।  কারাগারে যাওয়া অপর আসামির নাম জহির উদ্দিন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া গত ১৫ এপ্রিল তার ওপর হামলার অভিযোগে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি সদর আদালতে একটি মামলা করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন আসামি করা হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। বিশেষভাবে শিল্পী লোহার রড দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে মাথার হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হওয়ার দাবি করা হয়। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম জানান, আদালতে জমা দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টে আঘাতকে সাধারণ জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, মামলাটি জামিনযোগ্য হলেও আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন বলেন, শিল্পী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার সঙ্গে দুধের শিশুও রয়েছে। তার আরও দুই সন্তানÑ একজন পঞ্চম শ্রেণি ও অন্যজন দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরীক্ষার সময় মায়ের অনুপস্থিতিতে চরম মানসিক সংকটে পড়েছে তারা। এটি একটি মানবিক বিষয়। শিশুসন্তানদের ভবিষ্যৎ ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আদালতের কাছে আমরা জামিন আবেদন জানাই। জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল জানান, শিল্পীর সঙ্গে তার শিশুসন্তান সিয়ামও কারাগারে আছে।