জনবল সংকটে পাসপোর্ট সেবায় ধীরগতি, প্রবাসীদের ক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ দূতাবাস

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট সেবা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমিত জনবল এবং পর্যাপ্ত বুথ না থাকায় প্রতিদিন কয়েকশ প্রবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে মাত্র তিনটি বুথের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০টি পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হয়, যা ফ্রান্সে থাকা বিশাল সংখ্যক প্রবাসীর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় দিন শেষে আবেদন জমা না দিয়েই ফিরে যেতে হয়।

পাসপোর্ট সেবা বিলম্বিত হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে প্রবাসীদের জীবনযাত্রায়। পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় অনেক প্রবাসী তাদের বসবাসের বৈধ অনুমতিপত্র বা 'কার্ত দ্য সেজুর' নবায়ন করতে পারছেন না। এর ফলে চাকরি হারানোসহ নানা আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশপাশি, বৈধ পাসপোর্টের অভাবে প্রবাসীরা দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের একটি বড় অভিযোগ হলো দূতাবাসের তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা আবেদন প্রক্রিয়ার সঠিক নির্দেশনা না থাকায় অনেককে বারবার দূতাবাসে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে নাম ও বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে জটিলতা সবচেয়ে বেশি। প্রবাসীদের দাবি, আবেদন গ্রহণের আগে কার্যকর কোনো হেল্প ডেস্ক বা প্রাথমিক যাচাই ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগও তুলেছেন প্রবাসীরা।

বিদ্যমান এই সংকট নিরসনে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আগামী মাস থেকে নতুন একটি বুথ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এতে মোট বুথের সংখ্যা দাঁড়াবে চারে। এছাড়া আগামী জুন মাস থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করতে পারবেন এবং তারিখ পরিবর্তন বা বাতিল করার সুযোগও পাবেন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে দূতাবাসে ভিড় কমবে এবং সেবায় শৃঙ্খলা ফিরবে।

পাসপোর্ট উইংয়ের কর্মকর্তা কে এফ এম সরদার সাকিল জানান, অনেক সময় আবেদনকারীদের জমা দেওয়া ভুল তথ্য বা জাল নথিপত্রের কারণে প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে যায়। বিশেষ করে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পূর্বের এমআরপি এবং এনআইডির তথ্যের সাথে হুবহু মিল থাকা জরুরি। সামান্য অমিল থাকলেও আবেদন আটকে যায়। তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকট থাকলেও তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও দূতাবাস নতুন বুথ ও অনলাইন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস দিচ্ছে, তবে অনেক প্রবাসী একে আংশিক সমাধান হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংকট দূর করতে হলে জনবল বাড়ানো এবং কনস্যুলার সেবার অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। পাসপোর্ট সংশোধনের জটিলতা নিরসনে দ্রুত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।