ইতালিতে অনিয়মিত হয়ে যাওয়া কয়েকশ বাংলাদেশি কর্মীর দেশটিতে অবস্থান বৈধ করার জন্য দেশটির সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রোমে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক আলোচনা সভায় এ অনুরোধ জানানো হয়। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনালে রিকার্ডো গুয়ারিগ্লিয়া সভায় নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দনে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এসকল কর্মী ২০২২-২০২৩ সালে সাধারণ পথে ইতালিতে প্রবেশ করে। মূল পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা না যাওয়ায় এখন তারা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন ও বসবাসের অনুমতি নবায়নে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ বিবেচনায় তাদের বৈধ করতে ইতালি সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপকতা ও গভীরতায় উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পর্যালোচনা করেছে এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক খাতে আরও সহযোগিতার পথ নিয়ে আলোচনা করেছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগকে উৎসাহিত করা এবং গভীরতর ও টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য নতুন সুযোগ অন্বেষণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য নেওয়া সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগগুলো তুলে ধরেছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা স্থগিত করার জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতালির সমর্থন চেয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী যুগে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির (আইপিএ) মতো চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকারের গুরুত্বের ওপর বাংলাদেশ জোর দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা এবং ইইউ-এর নতুন জিএসপি প্রবিধানের অধীনে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক পণ্যের জন্য স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষাসীমার দ্রুত পর্যালোচনার জন্য ইতালির রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে।
অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে, বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইতালির প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে, এটি অভিবাসন ও গতিশীলতা বিষয়ক ২০২৫ সালের সমঝোতা স্মারকের অধীনে বৈধ অভিবাসনের জন্য আরও পথ উন্মুক্ত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। উভয়পক্ষ সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, জ্বালানি, অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেছে।
চলমান রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ইতালির কাছে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা চেয়েছে।
