ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আর্থিক সংকট কোনো বিবেচ্য বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১২ মে) হোয়াইট হাউস থেকে চীন সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তেহরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
সাক্ষাৎকারে এক সাংবাদিক জানতে চান, মার্কিনিদের আর্থিক চাপ কি তাকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ করছে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'একেবারেই না, সামান্যও না।' তিনি আরও বলেন, 'ইরান নিয়ে আমি যখন কথা বলি, তখন একটাই বিষয় ভাবি—তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। আমি আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না, কারও কথাই ভাবি না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়েই ভাবি—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না।'
এবিসি নিউজের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্যারেন ট্রাভার্স যুদ্ধের কারণে মার্কিন জনগণের ওপর পড়া অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ট্রাম্প আগের অবস্থানেই অনড় থাকেন। তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না।”
এরপর সাংবাদিক যখন জানতে চান, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি দামের চাপ নিয়ে তিনি কী ভাবছেন, ট্রাম্প বলেন, 'প্রত্যেক আমেরিকানই বিষয়টি বোঝেন। তারা বোঝেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পায়, তাহলে পুরো বিশ্বই বিপদে পড়বে, কারণ তারা উন্মাদ।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, 'আমরা তা বুঝতে পারছি।'
এদিকে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বেড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প দাবি করেন, তার অর্থনৈতিক নীতিগুলো 'অবিশ্বাস্যভাবে কার্যকর' হচ্ছে।