১০৮ বছর ধরে রেললাইন দেখি, কিন্তু চড়তে পারি না : ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘১০৮ বছর যাবত আমরা রেললাইন দেখি, কিন্তু আমরা আমাদের বাড়ি থেকে উঠতে পারি না। একারণেই আমরা অবহেলিত।’

বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সুধীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমাদের দুর্গাপুর-কলমাকান্দা একটি অবহেলিত জনপদ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই জারিয়া পর্যন্ত রেললাইন এলেও, দীর্ঘ ১০৮ বছরেও জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত মাত্র ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আজকে যারা অতিথি হয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি এ অঞ্চলের সকল মানুষ কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত অনুষ্ঠানগুলোতে কেবল পুরুষদের উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু আজকে নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীসহ সবাই এসেছেন তাদের মনের আকুতি জানাতে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই অঞ্চলের মানুষ যে দাবি জানিয়ে আসছিল, আজকে তারা সেই দাবিকেই সমর্থন জানাতে একতাবদ্ধ হয়েছেন।’

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, দুর্গাপুর-কলমাকান্দা একটি বাগান আর আমি এর মালি হিসেবে কাজ করতে চাই। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি কথা আমি বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যার অন্যতম উদাহরণ আজকের এই আয়োজন।’

সীমান্ত সড়কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একনেক বৈঠকে সীমান্ত সড়কের পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণের প্রকল্প পাস হয়েছে। এই পাঁচটি ব্রিজের মধ্যে চারটিই দুর্গাপুর-কলমাকান্দা অংশে। এর ফলে কুল্লাগড়া ইউনিয়নসহ নদীর ওপার আর বিচ্ছিন্ন থাকবে না। এছাড়া বিরিশিরি, মহাদেও নদী এবং লেংগুড়ার গণেশ্বরী নদীর ওপর সংযোগ সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কেবল কানেক্টিভিটি নয়, জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। আমি বলেছিলাম যেখানে মুসলমানের সংখ্যা বেশি সেখানে মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করবো। যেখানে খ্রিষ্টান বেশি সেখানে গ্রীর্জা ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা এবং যেখানে হিন্দু বেশি সেখানে মন্দির ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করবো। আমি যেন এই সমাজ ব্যবস্থা আপনাদের সকলকে নিয়ে কায়েম করতে পারি সেজন্য আমার জন্য আপনারা দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন। পাশাপাশি আমরা আজকে যেভাবে সমস্ত রাজনৈতিক দল এক হয়েছি ঠিক দেশের স্বার্থে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে আগামী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। 

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ।

এর আগে দুপুরে রেলপথ প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জারিয়া ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় স্থানীয়রা জারিয়া স্টেশন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকাগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর জোর দাবি জানান।